কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ‘ডলার-ফর-ডলার’ শুল্ক আরোপ করবে। শনিবার কানাডিয়ান পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি এই ঘোষণা দেন। এই শুল্ক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডিয়ান পণ্যের ওপর কার্যকর করা হয়েছে।
পাল্টা শুল্কের রূপরেখা
প্রধানমন্ত্রী কার্নি একটি ‘সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া’ বা ‘ফোকাসড রেসপন্স’ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এই পদক্ষেপের আওতায় মার্কিন আমদানিকৃত ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, কৃষি যন্ত্রপাতি, কাগজ এবং ইলেকট্রনিক্সের ওপর সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ করা হবে। কার্নি বলেন, কানাডার শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে রক্ষা করতে, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে তারা সব ধরনের আলোচনার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
গত ২০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বাণিজ্য নীতিকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে অভিযোগ করেছিলেন। দীর্ঘদিনের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্য উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। যদিও গত শুক্রবার পর্যন্ত একটি সমঝোতার সম্ভাবনা ছিল এবং ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন যে কানাডার সাথে চুক্তি এগিয়ে চলছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোচনা ব্যর্থ হয়।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণ
কার্নি জানান, কানাডা অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও বাস্তববাদী ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এমন শর্ত দিয়েছিল যা মেনে নেওয়া অসম্ভব ছিল। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি চেয়েছে এবং খুব সামান্যই প্রস্তাব করেছে।’ বিশেষ করে গাড়ির আমদানি এবং নতুন বাণিজ্য জোট গঠনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টাকে তিনি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। কার্নির মতে, যুক্তরাষ্ট্র শেষ মুহূর্তে এমন সব শর্ত জুড়ে দিয়েছিল যা কানাডার অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর ছিল।
ভবিষ্যৎ ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া
- মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, কানাডার সাথে আপাতত কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই।
- গ্রিয়ার আরও জানান, কানাডার পাল্টা শুল্কের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
- কার্নি স্বীকার করেছেন যে ওয়াশিংটন থেকে আসা এই অর্থনৈতিক ঝড়ের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।
- তবে তিনি কানাডাকে শক্তিশালী করে এবং বিদেশে বাণিজ্য সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করে নতুন পথ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
- কার্নি বলেন, ‘আমরা জানি যে ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে, তাদের স্বাক্ষর যেন পেন্সিলে লেখা।’
- ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে কানাডার ওপর চাপ বাড়িয়ে পশ্চিমা গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘদিনের মিত্রদেরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
- কার্নি মনে করেন, বিশ্বের ‘মাঝারি শক্তির’ দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির বিপরীতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।
- তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সংহতিকে এখন একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
- কানাডা এখন তার বাণিজ্যিক সম্পর্কগুলোকে আরও বিস্তৃত করার দিকে নজর দিচ্ছে।
- দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্য বিরোধ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
- কার্নি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, কানাডা তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করবে না।
সূত্র: আল জাজিরা






























