গতকাল ২২ আগস্ট আরসিডিই স্টেডিয়ামে এস্পানিওলের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে রিয়েল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রের প্রতি দর্শকদের আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কোচ জোসে মরিনহো। ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে এস্পানিওল সমর্থকদের একটি বড় অংশ ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডকে দুয়ো ও হুইসেল দিয়ে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মরিনহো বলেন, "আমি জানি এক সময় ভিনিসিউসের প্রতিপক্ষ হিসেবে আমার করা মন্তব্যগুলো সামনে আনা হতে পারে। কিন্তু এখন সে আমার দলের খেলোয়াড়। সে কোনো সাধু নয়, কিন্তু তার সঙ্গে যা করা হচ্ছে তা অতিরঞ্জিত। প্রথম মিনিট থেকেই যেন সবকিছু একটি নির্দিষ্ট ছকে হচ্ছে। আমি তাকে বল দিচ্ছি, এরপরই তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হচ্ছে, আবার কাউকে কার্ড ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।"
প্রতিপক্ষ সমর্থকদের এমন আচরণ থেকে ভিনিসিউসকে রক্ষা করতে এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখতে মরিনহো তাকে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "এটি তার জন্য বড় ধরনের হতাশার বিষয়। তাকে মানসিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে। আমি তাকে বলেছি, যদি সে গোল করে, তবে উদযাপনের সময় তাকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা এখন অ্যান্টি-বুলিং বা বুলিং বিরোধী এক সামাজিক যুগে বাস করছি, কিন্তু ভিনিসিউসের ক্ষেত্রে আমরা এখনো বুলিং বা হয়রানির যুগে রয়ে গেছি।"
সোফাস্কোরের তথ্য অনুযায়ী, ৯০ মিনিটের ম্যাচে ভিনিসিউস একটি শট নিয়েছেন, তিনটি সফল ড্রিবল করেছেন এবং নয়টি নির্ভুল পাস দিয়েছেন। এছাড়া তিনি ৩৭ বার বল স্পর্শ করেছেন এবং ১৬টি গ্রাউন্ড ডুয়েলের মধ্যে ১২টিতে জয়ী হয়েছেন। এই ম্যাচে রিয়েল মাদ্রিদ ২-১ গোলে জয়লাভ করে, যা মরিনহোর নতুন মৌসুমে প্রথম ম্যাচ ছিল।
উল্লেখ্য যে, এই গ্রীষ্মে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ছাড়ার গুঞ্জন থাকলেও ভিনিসিউস রিয়েল মাদ্রিদের সাথে ২০৩২ সাল পর্যন্ত ছয় বছরের চুক্তি নবায়ন করেছেন। মরিনহোর নতুন রিয়েল মাদ্রিদ প্রকল্পে ভিনিসিউস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তার গতি, দীর্ঘ দূরত্বে বল টেনে নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষকে একা পরাস্ত করার দক্ষতা পর্তুগিজ কোচের কৌশলের বড় অস্ত্র। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ভিনিসিউস ২২টি গোল ও ১৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন, বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
































