মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রাইমারি প্রার্থী ও কংগ্রেস সদস্য সেথ মল্টন দলের নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং দলীয় তহবিল ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ২৩ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে মার্গারেট ব্রেনানের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান সিনেটর এড মার্কির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে বর্তমান সিনেটর এড মার্কিকে চ্যালেঞ্জ করছেন সেথ মল্টন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এড মার্কির পক্ষে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ (এওসি)-এর মতো প্রভাবশালী প্রগতিশীল নেতাদের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও মল্টন নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি জানান, প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম বোস্টন গ্লোব এবার তাঁকে সমর্থন দিয়েছে, যা তাদের আগের অবস্থানের একটি বড় পরিবর্তন। কারণ ছয় বছর আগে তারা মার্কিকে সমর্থন করেছিল। বোস্টন গ্লোবের বরাত দিয়ে মল্টন বলেন, "ভবিষ্যৎ এখন।"
মল্টন অভিযোগ করেন, সিনেটর মার্কি এখনও ২০২০ সালের মতোই পুরোনো ধাঁচে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মার্কি তাঁর ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ ঠিকমতো বুঝতে পারেন না এবং কোন অ্যাপে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) রয়েছে তাও জানেন না। মার্কি এআই নিয়ন্ত্রণকে গাড়ির সিটবেল্ট নিয়ন্ত্রণের সাথে তুলনা করেছেন। মল্টন বলেন, বিশ্ব অনেক এগিয়ে গেছে এবং ওয়াশিংটনে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে থাকা মার্কির সাথে তাঁর নীতিগত অমিল না থাকলেও সময়ের প্রয়োজনে নেতৃত্বের পরিবর্তন জরুরি।
মল্টনের এই দলীয় নেতৃত্বের পরিবর্তনের দাবি নতুন নয়। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৮ সালে তিনি ন্যান্সি পেলোসিকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন, ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হয়েছিলেন এবং ২০২৪ সালে জো বাইডেনকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো তৃতীয় কংগ্রেস সদস্য ছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকারে মল্টন অভিযোগ করেন, ডেমোক্রেটিক পার্টি ভুল পথে চলছে এবং সিনেটর মার্কি নিজের নির্বাচনী প্রচারের জন্য চাক শুমারের তহবিল থেকে ৬২,০০০ ডলার নিয়েছেন। এই অর্থ মেইন, ওহাইও এবং আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে রিপাবলিকানদের আসন ডেমোক্রেটদের পক্ষে নেওয়ার জন্য দেশজুড়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল, যা মার্কি নিজের প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন।
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পাঁচ বছর পূর্তি এবং অ্যাবে গেট হামলায় ১৩ জন মার্কিন সেনা ও ১৭০ জন আফগান নাগরিক নিহতের ঘটনা নিয়ে মল্টন কথা বলেন। তৎকালীন সময়ে জো বাইডেনের সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেছিলেন তিনি। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের আফগানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মল্টন বলেন, বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো মূলত বর্ণবাদী এবং তারা আফগানিস্তান থেকে মার্কিন মিত্রদের সরিয়ে নেওয়ার অভিবাসন কার্যক্রম স্থবির করে দিয়েছে। তবে তাঁর কার্যালয় পর্দার আড়ালে প্রবীণ সৈনিকদের সাথে নিয়ে আফগানদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইতিমধ্যে বহু মানুষকে উদ্ধার করেছে।
মল্টন বলেন, অভিবাসন নীতিতে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন এবং মার্কিন সেনাদের পাশে থেকে জীবন বাজি রাখা আফগান সহযোগীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তিনি আরও জানান, মার্কি যখন ডেমোক্রেটিক তহবিল নিজের জন্য ব্যবহার করছেন, তখন মল্টন ‘সার্ভ আমেরিকা’র মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার সংগ্রহ করছেন যাতে দেশজুড়ে ডেমোক্রেটরা আসন পুনরুদ্ধার করতে পারে। ইতিমধ্যে তারা ২৪টি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ডেমোক্রেটদের অধীনে এনেছেন এবং কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।






























