কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এই সংখ্যাটি ২০১৮-২০২০ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের রেকর্ডের খুব কাছাকাছি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ইদানীংকালে এটিই সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণ, যা মূলত দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে কেন্দ্রীভূত। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবে প্রায় দুই বছরে ৩,৪০০ জনের বেশি আক্রান্ত এবং ২,২০০ জনের বেশি মৃত্যু হয়েছিল। তবে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ছিল ২০১৪-২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার সংক্রমণ, যেখানে ২৮,০০০ আক্রান্তের বিপরীতে ১১,০০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বুনিয়ার মার্সি কর্পস রেসপন্স টিমের প্রধান ওনেসফোর বাঙ্গেনজা বলেন, মাত্র ১০ সপ্তাহের মধ্যে আমরা যে পর্যায়ে পৌঁছেছি, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, ভাইরাসটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার চেয়েও দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্গম এলাকা বা নিরাপত্তার অভাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না। বিদ্রোহী হামলা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের কারণেও অনেক জায়গায় ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এই প্রাদুর্ভাবটি আগের তুলনায় ভিন্ন, কারণ এতে দায়ী 'বুন্দিবুগিও' ভাইরাসের কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো নেই। এছাড়া বিদ্রোহী সহিংসতা এবং বেতন না পাওয়ার প্রতিবাদে স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের কারণে সংক্রমণ প্রতিরোধের কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। রোগীদের সঠিক ইতিহাস পাওয়া এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং করাও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ সশস্ত্র সংঘাতের কারণে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
তবে পরিস্থিতির উন্নতির কিছু লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। মংবওয়ালু খনি শহরের বাসিন্দা ফাব্রিস মুম্বেসা জানান, স্থানীয়রা এখন ইবোলা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহ দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আর ইবোলা দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি না। পরিবারের সদস্যদের হারানোর পর, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য আমাদের ইবোলার বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রয়োজন।





























