নয়াদিল্লিতে ২০ জুন শান্তিপূর্ণ ছাত্র মিছিলে পুলিশের বর্বর হামলার ঘটনায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাবদিহিতা চেয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লির বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি বলপ্রয়োগের ঘটনায় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ৩ মে দেশব্যাপী মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এর প্রতিবাদে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস দল বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) ৬ জুন থেকে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ এবং ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দেয়। সেই পদযাত্রার দিনই রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)।
বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ ও আরএএফ সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহার করেছে। এক ভিডিওতে একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে নারী শিক্ষার্থীকে চড় মারতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারীকে শক ব্যাটন দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাদের ওপর পেরেক লাগানো লাঠি দিয়েও আঘাত করা হয়েছে।
সাংবাদিক বিজেতা সিং 'দ্য হিন্দু'-তে আরএএফ-এর ২০ জুলাই রাত ১টা ২৪ মিনিটের সাধারণ ডায়েরি উদ্ধৃত করে জানান, ডেপুটি কমান্ড্যান্টের নির্দেশে এবং ডিসিপির আদেশে ৫৫ রাউন্ড নন-ইলেকট্রিক্যাল শেল, ১৫ রাউন্ড ইলেকট্রিক্যাল শেল, ৫টি টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড ও ২ রাউন্ড প্লাস্টিক পেলেট ফায়ার করা হয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশ পেলেট গান ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে প্রতিবেদনগুলোকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে।
রাহুল গান্ধী তাঁর চিঠিতে জানতে চেয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি কি শিক্ষার্থীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিলেন? এছাড়া সাদা পোশাকে লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের পেটানো ব্যক্তিরা পুলিশ নাকি অন্য কেউ এবং তাদের মোতায়েনের নির্দেশ কে দিয়েছে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
দিল্লি পুলিশ ও আরএএফ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর রাহুল গান্ধী এই ইস্যুকে সামনে এনেছেন। দিল্লি হাইকোর্টের আইনজীবী ঋষভ শর্মার মতে, এই দায় কেবল মাঠ পর্যায়ের কনস্টেবলের নয়, বরং যারা এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত অমিত শাহ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, যা এই সহিংসতার প্রতি নীরব সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।






























