হলিউড তারকা ও সংগীতশিল্পী জ্যারেড লেটোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের গোপন আচরণের অভিযোগগুলো অবশেষে জনসমক্ষে এসেছে। বিবিসির নতুন তথ্যচিত্র 'জ্যারেড লেটো: হলিউড’স ডার্ক সিক্রেট'-এ চারজন নারী তাদের কিশোরী বয়সে লেটোর দ্বারা যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। এই তথ্যচিত্রটিতে যৌন নিপীড়ন, যৌন হয়রানির হুমকি, গ্রুমিং এবং আইন অনুযায়ী নাবালিকার সাথে যৌন সম্পর্কের মতো গুরুতর সব অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারী দল ও সাক্ষাৎকারদাতাদের দাবি, লেটো কনসার্ট থেকে নাবালিকাদের সংগ্রহ করার একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। তথ্যচিত্রটিতে লেটোর সাবেক পুরুষ সহকর্মীদের ভাষ্যও রয়েছে, যারা এই পুরো প্রক্রিয়ার সাক্ষী ছিলেন বলে দাবি করেছেন। জেসিকা সারতেনার ও তার দল এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন, যেখানে ভুক্তভোগীরা বর্তমানে তাদের ২০, ৩০ ও ৪০ বছর বয়সে এসে সেই অতীত অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন।
লেটো দীর্ঘদিন ধরেই তার বিতর্কিত আচরণের জন্য আলোচনায় ছিলেন। এর আগে ২০১৬ সালে 'সুইসাইড স্কোয়াড' সিনেমার শুটিংয়ের সময় সহ-অভিনেতাদের ইঁদুর, মৃত শূকর ও ব্যবহৃত কনডম পাঠানোর মতো উদ্ভট ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। তবে এবারের অভিযোগগুলো অনেক বেশি গুরুতর এবং পদ্ধতিগত অপরাধের দিকে ইঙ্গিত করে।
এর আগেও বিভিন্ন সময় লেটোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার চেষ্টা হয়েছে। ২০০৫ সালে নিউ ইয়র্ক পোস্ট তার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের প্রতি আগ্রাসী আচরণের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ২০১৮ সালে অভিনেতা ডিলান স্প্রাউস ও পরিচালক জেমস গান অনলাইনে লেটোর কিশোরীদের প্রতি আগ্রহ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। গত বছর 'এয়ার মেইল' পত্রিকার এলেনা ক্লাভারিনোর প্রতিবেদনে নয়জন নারী দাবি করেছিলেন যে, নাবালিকা থাকা অবস্থায় লেটো তাদের যৌন উত্তেজক ফোন কল, অশ্লীল আচরণ ও সামনে হস্তমৈথুনের মতো কাজ করেছেন।
তথ্যচিত্রে এমন কিছু আর্কাইভ ফুটেজ ও ক্লিপ ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে লেটোকে তরুণীদের সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে অথবা টক শোতে ভক্তদের সাথে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়ে গর্ব করতে শোনা গেছে। একটি ক্লিপে তাকে 'ডেজড অ্যান্ড কনফিউজড' সিনেমার একটি লাইন উদ্ধৃত করতে দেখা যায়, যা তার নাবালিকাদের প্রতি আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এবারের অনুসন্ধানের বিষয়ে জ্যারেড লেটো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, যা তার আগের অভিযোগের সময় দেওয়া কঠোর অস্বীকারের থেকে ভিন্ন। তথ্যচিত্রটি বিবিসি আইপ্লেয়ার এবং ইউটিউবে দেখা যাচ্ছে, যা হলিউডের এই অন্ধকার অধ্যায়কে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।




























