সম্প্রতি জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ভেঙে দিয়েছে। এই হামলার পরপরই ওয়াশিংটন ইরানের অভ্যন্তরে পাল্টা হামলা শুরু করে। আপাতদৃষ্টিতে এই সংঘাত ইরানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও, তেহরান মনে করছে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের চেয়ে সীমিত সংঘাত বজায় রাখাই তাদের কৌশলের জন্য বেশি কার্যকর।
উভয় পক্ষই বর্তমানে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়। ওয়াশিংটন এমন কোনো বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত চায় না, যা জ্বালানি অবকাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে অথবা মার্কিন সামরিক সম্পদকে অতিরিক্ত চাপে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের দুর্বল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভঙ্গুর শিল্প অবকাঠামো এবং নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা অর্থনীতি তাদের জন্য যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বহন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল করে তুলেছে।
ইরানের কৌশল এখন সামরিক বিজয়ের চেয়ে বরং টেকসই চাপের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি তেহরানকে দুর্বল অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে, কারণ সেক্ষেত্রে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এর বিপরীতে, সীমিত সংঘাতের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মান্দাব অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বজায় রেখে ইরান বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও শিপিং খরচের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে দরকষাকষির সুযোগ করে দেয়।
তেহরানের লক্ষ্য সম্ভবত এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়টি তাদের প্রভাবের ওপর নির্ভর করবে। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে থাকা ইরান যুদ্ধের আবহে জনমতকে সরকারের পক্ষে সংহত করার সুযোগ পায়। যদিও এই কৌশলের মাধ্যমে ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় মূল্য দিচ্ছে, তবুও তারা মনে করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়ানোই তাদের জন্য শ্রেয়।
তবে এই কৌশলের ঝুঁকিও কম নয়। সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশ, যারা এতদিন নিরপেক্ষ ছিল, তারা এখন ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর আরও কঠোর চাপ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত, তেহরান কতটা নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এই সংঘাত চালিয়ে যেতে পারবে, তা আগামী দিনের ঘটনাপ্রবাহের ওপর নির্ভর করছে।





























