প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রদত্ত সেবার বিপরীতে ন্যায্য ফি নিতে পারবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি আদায় করলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর পিটিআই সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য খাতভিত্তিক নতুন পে-স্কেল তৈরির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের সন্তুষ্ট করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছরের মধ্যেই সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পোশাক সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষার অংশ হিসেবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থাও চালু করা হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, দাপ্তরিক প্রতিবেদনের চেয়ে শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিখনফলই হবে সাফল্যের প্রধান মানদণ্ড। মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও জানান, শুধু সরকারি নয়, দেশের সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী আটটি বিভাগে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করছে। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগে কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে খুলনা, রংপুর ও ঢাকা বিভাগে এটি অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হলো মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ গ্রহণ করা। শিক্ষক ও প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, কারিকুলাম সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার, অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ বাথরুম এবং শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নয়নের মতো প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য প্রত্যেক শিশু বিদ্যালয়ে থাকবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী সঠিক শিক্ষা পাবে।’ আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও সরকারের পাঁচ বছরের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক শহীদুল ইসলাম। কর্মশালায় রাজশাহী বিভাগের সব জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
































