আধুনিক বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে আমিরাতি শিশুদের চরিত্র গঠন ও তাদের জীবনমুখী দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘জিল ৭১’ (জেনারেশন ৭১) কর্মসূচিটি একটি কার্যকর শিক্ষামূলক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। জাতীয় পরিচয় এবং প্রয়োজনীয় জীবনদক্ষতার সমন্বয়ে এই উদ্যোগটি তরুণ প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসের সাথে বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করে তুলছে।
ন্যাশনাল একাডেমি ফর চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট এবং মিনিস্ট্রি অফ ফ্যামিলির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচির গ্রীষ্মকালীন সংস্করণটি ২০২৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ইয়ার অফ দ্য ফ্যামিলি’ বা পারিবারিক বর্ষ ঘোষণার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হয়েছে। এটি পরিবারকে শক্তিশালী করা এবং শিশু লালন-পালনে তাদের মৌলিক ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়ার জাতীয় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। এই কর্মসূচি কেবল বিনোদন বা সাধারণ শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে দৈনন্দিন অভ্যাসে রূপান্তরের একটি সমন্বিত মডেল, যা শিশুদের স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
ন্যাশনাল একাডেমি ফর চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্টের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ড. মীরা আল কাবি এমিরেটস নিউজ এজেন্সিকে (ডব্লিউএএম) জানান, এবারের গ্রীষ্মকালীন সংস্করণটি ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। তার মতে, এই বয়সটি শিশুদের চরিত্র গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, যেখানে তারা ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ, গঠনমূলক মিথস্ক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মতো গুণাবলী অর্জন করে।
ড. আল কাবি আরও জানান, ‘জিল ৭১’ কর্মসূচিতে ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা কর্মশালার ব্যবস্থা রয়েছে, যা তাদের বিকাশের ভিন্ন ভিন্ন চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। পাঠ্যক্রমে তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে ব্যবহারিক প্রয়োগের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। এখানে ঐতিহ্যবাহী আমিরাতি শিষ্টাচার বা ‘সানা’ এবং নিজস্ব ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক জীবনদক্ষতার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলার অর্থ কেবল রীতিনীতি জানা নয়, বরং আত্মনির্ভরশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মূলনীতিগুলো দৈনন্দিন জীবনে চর্চা করা।
পরিবারকে এই দক্ষতাগুলো চর্চার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে ড. আল কাবি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন ‘জিল ৭১’-কে শিক্ষা, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বাস্তব প্রয়োগের একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন। বাড়িতে শিশুদের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা হলে তা কর্মসূচির প্রভাবকে দীর্ঘস্থায়ী করবে এবং অভিভাবক ও শিশুদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের পথ প্রশস্ত করবে।
কর্মসূচির প্রথম সংস্করণে ২,৭০০টিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল এবং ৪০০ জনেরও বেশি শিশু এতে অংশ নিয়েছিল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আবুধাবি, শারজাহ, আজমান এবং ফুজাইরাহ জুড়ে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। ড. আল কাবি জানান, এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে পরিবারগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা এমন একটি কাঠামোগত শিক্ষামূলক পরিবেশ খুঁজছে যেখানে আনন্দ ও শেখার সমন্বয় রয়েছে। এটি মূলত শৈশব থেকেই মানবসম্পদ উন্নয়নে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশলগত বিনিয়োগের একটি অংশ।
সূত্র: গালফ টুডে































