ছোট পর্দার বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী তানজিম সাইয়ারা তটিনী। মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘পথহারা মন’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নতুন করে দর্শকের নজর কেড়েছেন। নাটকটি বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইমেও দেখা যাচ্ছে। এমন ব্যস্ততার মধ্যেই গত মঙ্গলবার বিকেলে মনজুর কাদেরের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে এল তাঁর ক্যারিয়ার ও কাজের নানা দিক।
কাজের চাপের কারণে ঘুমের সময় পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে তটিনীর জন্য। মঙ্গলবার ভোরেই তিনি ‘আমার হয়ে থেকো’ নাটকের শুটিং শেষ করে বাসায় ফিরেছেন। নিয়মিত কাজের ধারায় দর্শক এখন তাঁকে রোমান্টিক চরিত্রে দেখতেই বেশি পছন্দ করেন বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, ‘তোমাদের গল্প’ প্রচারের পর থেকে মানুষ তাঁকে চটপটে চরিত্রে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে, যদিও এর আগে দর্শক তাঁকে শান্ত ও চুপচাপ স্বভাবের হিসেবেই চিনতেন। ব্যক্তিগত জীবনে কাছের মানুষের সঙ্গে তিনি চঞ্চল হলেও, অপরিচিতদের কাছে তিনি কিছুটা গম্ভীরই থাকেন।
‘পথহারা মন’ নাটকের সাফল্যের পেছনে তটিনী তিনটি বড় কারণ দেখছেন। প্রথমত, এর গল্প যা দর্শকের হৃদয়ের খুব কাছাকাছি। দ্বিতীয়ত, জাহিদ হাসানের দীর্ঘ বিরতির পর ফিকশনে ফেরা। আর তৃতীয়ত, নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজের নির্মাণশৈলী। তটিনীর মতে, রাজের কাজ করার নিজস্ব একটি প্যাটার্ন আছে, যা খুব সহজেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারে। এটিকে তিনি পরিচালকের এক ধরনের ‘ম্যাজিক’ হিসেবেই অভিহিত করেন।
ধারাবাহিক নাটকে ফেরার বিষয়ে তটিনী বলেন, তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুটা ধারাবাহিক দিয়েই হয়েছিল। তবে এখনকার প্রেক্ষাপটে আবার ধারাবাহিকে কাজ করাটা নতুন এক অভিজ্ঞতার মতো। মোস্তফা কামাল রাজের ওপর আস্থা থেকেই তিনি ‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকে যুক্ত হয়েছেন। সিনেমাওয়ালা প্ল্যাটফর্মে নিজের কাজ তুলে ধরার সুযোগ পাওয়াকে তিনি বড় প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন।
জুটি প্রথা নিয়ে তটিনীর নিজস্ব দর্শন বেশ স্পষ্ট। তাঁর মতে, জুটি দর্শক পছন্দ করলে তা কাজের জন্য ইতিবাচক, কিন্তু এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অভিনয়ের সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তিনি মনে করেন, গল্পের মান ও সততার সঙ্গে অভিনয় করাই আসল, বিপরীতে কে আছেন তা গৌণ। পার্থ শেখের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে কাজ করার বিষয়ে তিনি জানান, দর্শক তাদের পছন্দ করলেও, আরও শক্তিশালী বা ভিন্ন ঘরানার গল্পে কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। ভিউয়ের চেয়ে কাজের মান ও চরিত্রকেই তিনি সবসময় প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন।
অভিনয় ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত পাঁচটি চরিত্রকে তিনি নিজের খুব কাছের বলে মনে করেন। এগুলো হলো—‘সুহাসিনী’র আলো, ‘তোমাদের গল্প’র শালু, ‘হৃদয়ের গভীরে’র রাহা, ‘সময় সব জানে’র ইরা এবং ‘কাজল চোখের মেয়ে’র কাজল। প্রতিটি চরিত্রই তাঁকে শিল্পী হিসেবে সমৃদ্ধ করেছে বলে তিনি জানান।
বড় পর্দায় কাজের বিষয়ে তটিনী এখনো বেশ সতর্ক। ‘জয়া আর শারমিন’ সিনেমায় ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেও, বড় পর্দায় পূর্ণাঙ্গ কাজের জন্য তিনি এখনো অপেক্ষায় আছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বড় পর্দায় কাজের প্রস্তাব তিনি পেয়েছেন, কিন্তু কোনোটিই তাঁর কাছে যথেষ্ট কনভিন্সিং মনে হয়নি। তিনি বলেন, “আমি এমন কোনো কাজ করতে চাই না, যেটা নিয়ে দর্শকের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা হতাশ হবেন। আমি চাই না, মানুষ আশাহত হোক।” ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে তবেই তিনি বড় পর্দায় নিজেকে মেলে ধরার কথা ভাববেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চারটায় ‘আমার হয়ে থেকো’ (নাম বদল হতে পারে) শুটিং শেষে বাসায় ফিরেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই ফোনের নেট বন্ধ করে ঘুমাচ্ছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বেশির ভাগ মানুষ আমাকে চুপচাপ হিসেবেই চেনে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিবারের কাছে আমি কী, তা অবশ্য পরিবারই ভালো বলতে পারবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনার অভিনীত ‘পথহারা মন মানুষ’ কেন এত পছন্দ করল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি অ্যামাজান প্রাইম থেকেও এখন দেখতে পারছেন মানুষ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি জাহিদ হাসান আঙ্কেল অনেক দিন পর ফিকশনে অভিনয় করেছেন—এটাও দর্শকের মধ্যে আলাদা একটি আগ্রহ ও আকর্ষণ তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে সবকিছু ছাপিয়ে রাজ ভাইয়ের উপস্থাপনাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর মনে হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো
































