নেপাল-তিব্বত সীমান্তে কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই আঘাত হানা এক প্রলয়ংকরী বন্যায় নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়েছেন এক কাপড় ব্যবসায়ী। নুয়াকোটের ত্রিশূলী বাজারের এই ব্যবসায়ী জানান, ঘটনার দিন এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত ছিল না এবং সবাই দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিব্বত সীমান্তে নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর জানিয়ে দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার আগেই পানির প্রবল তোড়ে তার স্ত্রী ও তরুণ ছেলে চোখের পলকে ভেসে যান। সতর্কবার্তা পাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কাদা ও পানির বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ে, যা তাদের জীবন কেড়ে নেয়। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভোতে কোশি নদীর উপনদীতে হিমবাহ ধসে পানি আটকে যাওয়ার ফলেই এই ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। রাসুয়া জেলার প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, তিনি প্রায় ১০০ মিটার উঁচু ঢেউয়ের মতো পানি ধেয়ে আসতে দেখেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে আস্ত একটি বাজার ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমানে রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা কয়েক মিটার গভীর কাদা ও পলির নিচে চাপা পড়ে আছে। চোখের সামনে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বিলীন হয়ে যাওয়ায় শত শত মানুষ এখন নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। প্রিয়জন হারানোর শোকে পাথর হয়ে যাওয়া ওই ব্যবসায়ীর মতো অনেকেই এখন ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে কেবল আর্তনাদ করছেন।
সূত্র: মানবজমিন






























