পশ্চিম আফ্রিকার প্রাকৃতিক পোতাশ্রয়বেষ্টিত অ্যাঙ্গোলার লোবিটো শহরটি বর্তমানে একটি প্রধান শিল্প বন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। গত দুই দশকে ধারাবাহিকভাবে গড়ে ওঠা এই বন্দরটি আন্তর্জাতিকভাবে অর্থায়নকৃত ‘লোবিটো করিডোর’-এর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কৌশলগত অবস্থান তৈরি করেছে। অতীতে অ্যাঙ্গোলার অর্থনীতি মূলত কাবিন্দা ও লুয়ান্ডার তেল উত্তোলনের ওপর নির্ভরশীল ছিল, কিন্তু ২০১৪ সালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় দেশটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অ্যাঙ্গোলা বর্তমানে তাদের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনছে, যার ফলে খনিজ সম্পদ ও নতুন শিল্প খাত এখন বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
কঙ্গো ও জাম্বিয়া থেকে কোবাল্ট ও তামার মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ পরিবহনের জন্য বেঙ্গুয়েলা রেলপথ লোবিটোর সাথে আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডের সংযোগ স্থাপন করেছে। এই খনিজ সম্পদ এবং জ্বালানি সরবরাহ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সংকটের সময় অ্যাঙ্গোলা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট জোয়াও লোরেঙ্কো বেঙ্গো প্রদেশে একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানা উদ্বোধন করেছেন, যা প্রতিদিন ২৪০ টন ইনগট উৎপাদন করছে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে সৃষ্ট ৯ শতাংশ সরবরাহ ঘাটতি পূরণে সহায়তা করছে। এছাড়া, ২০২৭ সালে চালু হতে যাওয়া একটি অ্যামোনিয়া-ইউরিয়া কমপ্লেক্সে ২ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৪,০০০ টন সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
অ্যাঙ্গোলার এই নতুন বাণিজ্যের প্রতি অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম ও হংকংয়ের মতো দেশগুলো আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুং আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ার হিসেবে অ্যাঙ্গোলার সাম্প্রতিক ভূমিকার প্রশংসা করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সাথে অ্যাঙ্গোলার বাজার একীভূত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে, চীনের সাথে অ্যাঙ্গোলার শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান এবং দক্ষিণ কোরিয়াও নতুন তেল ও এলএনজি সরবরাহ চেইন নিশ্চিত করতে অ্যাঙ্গোলার সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী।
লোবিটো করিডোর সম্প্রসারণের মাধ্যমে এশিয়া-প্যাসিফিকের দেশগুলোর সাথে আফ্রিকার খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের মেলবন্ধন ঘটছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এই করিডোরে বিনিয়োগের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যা এশীয় অংশীদারদের সাথে সহযোগিতার নতুন পথ প্রশস্ত করেছে। এই বাণিজ্য সংযোগ কেবল অ্যাঙ্গোলার অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করছে না, বরং পুরো আফ্রিকার বৈশ্বিক বাণিজ্যিক লিংকেজ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

























