দরিদ্র, অতিদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই নতুন নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো প্রায় ২ কোটি নারী পরিবারপ্রধানকে সরাসরি জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পারসন) পদ্ধতিতে মাসিক নগদ সহায়তা প্রদান করা। এই কর্মসূচিকে স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে আট ধরনের ব্যক্তি বা পরিবারকে সুবিধার বাইরে রাখার জন্য একটি ‘নেগেটিভ লিস্ট’ বা অযোগ্যতার তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতনভুক্ত চাকরিজীবী বা সরকারি পেনশনভোগীরা এই কার্ড পাবেন না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য বিশেষ পেনশন গ্রহণকারীরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। এছাড়া পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ, কিংবা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলে সেই পরিবার কার্ড পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
সম্পদ ও আয়ের শর্তে বলা হয়েছে, বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে কার্ড পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি কিংবা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি সুবিধা থেকে বাদ পড়বে। এছাড়া বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে কিংবা বড় কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বা নিয়মিত করযোগ্য আয় থাকলে সেই পরিবারও এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত হবে না।
এক পরিবারের জন্য একটি কার্ড নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান-আইডি’ বা অনন্য পরিচিতি নম্বর প্রবর্তন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একই ব্যক্তি একাধিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা নিচ্ছেন কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের নারী প্রধান একই সময়ে অন্য কোনো সমজাতীয় সরকারি আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা নিতে পারবেন না। টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিডব্লিউবি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতার মতো সুবিধা গ্রহণ করলে আগের সুবিধা বাতিল বা স্থগিত হয়ে যাবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রচলিত নিয়মে অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আবেদনকারীদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এনআইডি, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, এনবিআর, বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগের তথ্যভান্ডার এবং ব্যাংকগুলোর ডেটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জালিয়াতি রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে আয়, সঞ্চয়, জমি বা কর প্রদানের তথ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ





























