রাজধানীর ভাষানটেক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত থাকার তথ্যে সাড়া দিয়ে একযোগে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিনটি সংস্থা। গত শনিবার দুপুরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) একই সঙ্গে এই বার্তা পাঠানো হয়। বার্তা প্রেরক নিজেকে ‘মো. আবদুল্লাহ আল-আমিন শুভ’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তিনি অতীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও বার্তায় উল্লেখ করেন।
বার্তা প্রেরক ভাষানটেকের তিনটি সুনির্দিষ্ট ঠিকানার কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে ১৬০/বি নম্বর ‘বিলাস ভবন’ অন্যতম। তিনি দাবি করেন, সেখানে ১৩টি অবৈধ অস্ত্র, ৩০০ রাউন্ড গুলি ও ২৪টি ম্যাগাজিন রয়েছে। অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে তিনি জানান, আলমারিতে কাপড়ের নিচে লাল কস্টেপ দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় ৮টি অস্ত্র এবং নিজের কক্ষের আলমারিতে বাকি ৫টি অস্ত্র রাখা আছে। এসব ফ্ল্যাট অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থে কেনা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তথ্য পাওয়ার পর মিরপুর বিভাগের পুলিশ, র্যাব ও ডিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। র্যাব-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলমের নেতৃত্বে গত ২৯ আগস্ট বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভাষানটেকের বাগানবাড়ি এলাকার ১৬০/বি নম্বর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বাড়িটির চতুর্থ তলায় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট অহিদুল হকের ই/৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু বার্তায় উল্লিখিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বা গোলাবারুদের কোনো অস্তিত্ব সেখানে পাওয়া যায়নি।
অভিযান শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে কেবল পিস্তলসদৃশ দুটি গ্যাস লাইটার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। কোনো অবৈধ বস্তু না পাওয়ায় যৌথ বাহিনী ‘শূন্য জব্দ তালিকা’ দিয়ে অভিযান সমাপ্ত করে। এ ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, কে বা কারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তিনটি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে এই ভুয়া তথ্য পাঠাল? বিষয়টি এখন গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে।
ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন, তবে অভিযানের তথ্যের উৎস সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত অবগত নন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রাকিব খাঁন জানান, একই বার্তা তিনটি সংস্থাকে পাঠানোর বিষয়টি রহস্যজনক। তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি কেন একই মেসেজ তিন বাহিনীকে দিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিদেশি নম্বর ব্যবহারকারী ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত ও বার্তার উৎস অনুসন্ধানে কাজ চলছে।’
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, এটি কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা কিংবা অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তার স্ক্রিনশট ও ছবিগুলো ফরেনসিক বিশ্লেষণের আওতায় আনা হয়েছে। বার্তা প্রেরক নিজেকে প্রবাসী হিসেবে দাবি করলেও তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে ডিবি পুলিশ এই রহস্যজনক বার্তার উৎস এবং এর পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অভিযানে কোনো ধরনের অপরাধমূলক সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। এখন মূল লক্ষ্য হলো ওই বিদেশি নম্বরটির মালিককে খুঁজে বের করা এবং এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের পেছনে থাকা চক্রটিকে চিহ্নিত করা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত বিভ্রান্তি হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, যে বিদেশি নম্বরটি থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছে সেটি হলো +৯১ ৮৭৭৮ ২৭০৯৬। এই নম্বরটি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তার প্রতিটি লাইন এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন সংস্থার একযোগে অভিযান চালানোর ঘটনাটি এখন পুলিশের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বার্তায় নির্দিষ্ট ঠিকানা উল্লেখ করে অস্ত্রের অবস্থানও জানানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার নোংরা জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাই।’ আরেকটি বার্তায় তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তিনি প্রবাসে পলাতক রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে অর্থের লোভে তিনি অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরও লেখেন, ‘পরবর্তীতে অর্থের লোভে বশবর্তী হয়ে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায় গোপনে ও পরিবারে প্রকাশ্যে জড়িয়ে যাই।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেগুলো হলো— ১৬০/বি, ৩-ই উত্তর ভাষানটেক, থানা: ভাষানটেক, ঢাকা; ১৬৩/৩, উত্তর ভাষানটেক, থানা: ভাষানটেক, ঢাকা এবং ৬৫/৩, উত্তর ভাষানটেক, থানা: ভাষানটেক, ঢাকা।



























