নারায়ণগঞ্জ সদর ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র পেয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল। আজ সোমবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দেখেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে অনুপস্থিত। একই সময়ে তিনি কার্যালয়ের হাজিরা খাতায় ৩১ আগস্টের তারিখ দিয়ে কর্মকর্তাদের আগাম স্বাক্ষর দেখতে পান, যা উপস্থিত না থেকেই করা হয়েছে। এই ঘটনাকে সরাসরি ‘জালিয়াতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রতিমন্ত্রী এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী যখন কার্যালয়টি পরিদর্শন করছিলেন, তখন সেখানে নারায়ণগঞ্জ সদর রাজস্ব সার্কেল, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয়গুলোতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কানুনগোসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বড় অংশের দেখা মেলেনি। উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তিনি কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারি দপ্তরে সময়মতো উপস্থিত না হওয়া এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে তাঁর কাছে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর অথচ কর্মস্থলে অনুপস্থিতি—এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিদর্শনের সময় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাঠামোগত জটিলতা প্রতিমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সিএস জরিপে যেসব জায়গা নদী, খাল বা বিল হিসেবে চিহ্নিত ছিল, পরবর্তী আরএস জরিপে সেগুলোর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে এসব জমিতে ব্যক্তিমালিকানা তৈরি হওয়ায় নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদী তীরবর্তী এলাকায় এই জটিলতা প্রকট। বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হলেও কার্যকর সমাধান না আসায় তিনি উচ্চতর আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন বলে মত দেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ভূমি অফিসগুলোতে বিদ্যমান জনবলসংকটের বিষয়টিও প্রতিমন্ত্রীর নজরে আনেন। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কর্মশালা আয়োজনের আশ্বাস দিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল দায়িত্ব হলো জনগণকে সেবা প্রদান করা। রাষ্ট্র তাঁদের জনগণের সেবার জন্যই নিয়োগ দিয়েছে, তাই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মীর হেলাল পুনরায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, সরকারি ভূমিসেবা কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ছাড়া প্রাপ্য সেবা পান, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুটি সার্কেল অফিসের ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় সবার স্বাক্ষর আছে, অথচ তাঁরা কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবার কোথাও ব্যক্তিমালিকানাও সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নদী রক্ষা কমিশনের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা আছে।
সূত্র: প্রথম আলো

























