কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন প্রজন্মের কর্মীদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির বড় ধরনের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চাকরি ও কর্মক্ষেত্রবিষয়ক ওয়েবসাইট গ্লাসডোরের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মজীবনে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা এআইকে নতুন সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করলেও তরুণ কর্মীদের মধ্যে এই প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগ বেশি। অথচ মজার বিষয় হলো, এআই টুল ব্যবহারের দিক থেকে তরুণরাই বর্তমানে এগিয়ে আছেন।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সী কর্মীরা এআইয়ের বিষয়ে তুলনামূলক বেশি ইতিবাচক। ১৯৬৫ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেনারেশন এক্স বা জেন এক্স কর্মীদের প্রায় অর্ধেকই নিজ প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের ধারণা, এই প্রযুক্তির প্রসার জ্যেষ্ঠ কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, জেন-জি প্রজন্মের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী এআইকে ইতিবাচকভাবে দেখেন না। যদিও উভয় প্রজন্মের কর্মীরাই এআইয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করেছেন, তবুও জেন-জি কর্মীদের মধ্যে আশাবাদের ঘাটতি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় তরুণ কর্মীদের এই উদ্বেগের যৌক্তিক কারণ উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, এআইয়ের প্রভাবে যেসব পেশা সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে, সেখানে ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সী কর্মীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এআইয়ের প্রভাবমুক্ত পেশার তুলনায় ১৯ শতাংশ কম। উল্লেখ্য, গত বছর এই ব্যবধান ছিল ১৩ শতাংশ। গ্লাসডোরের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্রিস মার্টিন ব্লুমবার্গের কাছে মন্তব্য করেছেন যে, আগে আশঙ্কা ছিল বয়স্ক কর্মীরা নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে অনিচ্ছুক হওয়ায় কর্মক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অভিজ্ঞ কর্মীরা এআইয়ের প্রভাবে বরং বেশি সুরক্ষিত অবস্থানে রয়েছেন।
অভিজ্ঞ কর্মীদের এআই ব্যবহারের দক্ষতাও তাদের এগিয়ে রাখছে। ৪০ বছরের বেশি বয়সী কর্মীরা মনে করেন, তাদের প্রতিষ্ঠান এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ভালো অবস্থানে আছে। এছাড়া লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) থেকে কার্যকর ফলাফল পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রম্পট তৈরি এবং এআইয়ের দেওয়া ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কর্মীরা বেশি দক্ষ।
চাকরির ওয়েবসাইট ইনডিডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত আগের এক বছরের তুলনায় জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের চাকরির বিজ্ঞপ্তি ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে একই সময়ে প্রবেশ পর্যায়ের চাকরির বিজ্ঞপ্তি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এর মূল কারণ হলো, গ্রাহকসেবা, গবেষণা ও বিপণনসামগ্রী তৈরির মতো প্রবেশ পর্যায়ের কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করার দিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। যেহেতু এসব কাজ সাধারণত কর্মজীবনের শুরুতে থাকা কর্মীরা করেন, তাই এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের জন্য কাজের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো



























