ইতালিয়ান সিরি আ-তে জেনোয়ার বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে কোমো। দলের এই অসাধারণ প্রত্যাবর্তনে খেলোয়াড়দের ‘পরিপক্বতা এবং মানসিক শক্তি’র ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কোচ সেস ফ্যাব্রেগাস। গত মৌসুমটি কোমোর জন্য ছিল চমক জাগানো এবং ইতালিয়ান ফুটবলের শীর্ষ স্তরে ওঠার ধাপ। আর চলতি মৌসুমটি তাদের জন্য নিজেদের অবস্থান সুসংহত ও প্রমাণ করার লড়াই।
জেনোয়ার মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মিলুতিন ওসমায়িচের গোলে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল কোমো। তবে এতে বিন্দুমাত্র ঘাবড়ে না গিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা ধরে রাখে তারা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ম্যাচটি ৪-১ ব্যবধানে জিতে নেয় দলটি। কোমোর হয়ে জোড়া গোল করেন আসানে দিয়াও। এর মধ্যে একটি গোল এসেছে ক্লাবের হয়ে অভিষেক হওয়া মইস কিনের অ্যাসিস্ট থেকে। এছাড়া দলের হয়ে অন্য দুটি গোল করেছেন মার্টিন বাতুরিনা ও নিকো পাজ।
ম্যাচ শেষে ডিএজেডএন ইতালিকে (DAZN Italia) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্যাব্রেগাস বলেন, “উপভোগ করার বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন তার ওপর নির্ভর করে। আমার মতে, যখন আপনি নিজের সেরাটা দিয়ে সঠিকভাবে খেলবেন, তখনই খেলাটা উপভোগ করা যায়। প্রতিটি কোচ, ক্লাব এবং দলের নিজস্ব পথ ও পরিচয় থাকে, আমরা আমাদেরটি ধরে রাখার চেষ্টা করছি। ছেলেরা ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে সামাল দিচ্ছে। গোল হজম করার ঘটনাটি আমাদের শিখিয়েছে যে, সিরি আ-তে মাত্র দুই সেকেন্ডের জন্য মনোযোগ হারালেও শাস্তি পেতে হয়। তবে এরপর ছেলেরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা তাদের পরিপক্বতা ও মানসিক শক্তির প্রমাণ দেয়।”
খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্প্যানিশ এই কিংবদন্তি বলেন, “খেলোয়াড়ি জীবনে আমি অনেক ম্যাচ হেরেছি—কখনো ভালো খেলে, কখনো আবার খারাপ খেলে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের আসল রূপ ধরে রাখা। এমন দিন আসতে পারে যখন শেষ পাসটির মান বা ভাগ্যের অভাবে আমরা জিতব না, কিন্তু তবুও আমাদের নিজেদের খেলাটাই খেলতে হবে। যেদিন আমি দেখব আমরা অনুশীলনে যা প্রস্তুতি নিয়েছি বা আমাদের নীতি ও পরিচয়ের বাইরে কিছু করছি, সেদিনই কেবল আমি রেগে যাব। সৌভাগ্যবশত, আমার দলের মধ্যে সঠিক শান্ত মানসিকতা দেখতে পাচ্ছি। জয়-পরাজয় আসতেই পারে, কিন্তু পরিচয় ধরে রাখা আবশ্যক।”
ক্যারিয়ারে স্ট্রাইকার হিসেবে কিছুটা স্বার্থপর খেলার অভিযোগ থাকলেও, এদিন বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দিয়াওকে চমৎকার অ্যাসিস্ট করেন কিন। তাকে নিয়ে ফ্যাব্রেগাস বলেন, “প্রেসিং বা মুভমেন্টের মতো অনেক বিষয়ে ওর এখনও উন্নতির জায়গা রয়েছে। তবে আমরা সবাই জানি মইসের মান কেমন। নতুন আসা সব খেলোয়াড়ের প্রভাবই ইতিবাচক ছিল। আমাদের ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে কাজ করে যেতে হবে, যাতে সবাই একই ছন্দে থাকতে পারে।”
গ্রীষ্মকালীন দলবদলে স্কোয়াডকে বেশ শক্তিশালী করেছে কোমো। এবার তারা ক্লাব ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠ স্তাদিও সিনিয়াগ্লিয়া-তে (Stadio Sinigaglia) জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগকে আতিথ্য দেবে তারা। উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী স্টেডিয়ামটির সংস্কার কাজ চলায় এটিই হতে যাচ্ছে চলতি মৌসুমে কোমোর প্রথম হোম ম্যাচ। ফ্যাব্রেগাস যোগ করেন, “ভালো খেলোয়াড়ের পাশাপাশি ভালো মনের মানুষ দলে আনা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আমরা সেটাই করেছি। আমাদের দলে বেশ কয়েকজন শক্তিশালী খেলোয়াড় রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শুরু হলে আমাদের পথচলা আরও রোমাঞ্চকর হবে, তাই সবার অবদানই আমাদের প্রয়োজন।”
























