দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিদ্যমান নানামুখী চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন স্বাস্থ্যখাতের মূল লক্ষ্য।
রোববার বিকেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট-এ বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) আয়োজিত এক নীতি-নির্ধারণী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধুমাত্র হাসপাতাল বা চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার দিকে নজর না দিলে ক্যান্সার, কিডনি কিংবা লিভারের মতো প্রাণঘাতী রোগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
ড. এম এ মুহিত দেশের ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিগুলোর পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে দেশে ১০ হাজারের বেশি ল্যাবরেটরি থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি বা অ্যাক্রেডিটেশন রয়েছে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি ল্যাবের। এ ক্ষেত্রে তিনি আইনি কড়াকড়ি বা জোর জবরদস্তির চেয়ে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা যদি মান ধরে রাখার সুফল হিসেবে মানুষের আস্থা ও ব্যবসায়িক লাভের বিষয়টি বুঝতে পারেন, তবে তারা নিজেরাই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিতে আগ্রহী হবেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের ল্যাবরেটরিগুলোর পরীক্ষার ওপর পর্যাপ্ত আস্থা না থাকায় প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ বিদেশে চিকিৎসার জন্য যান, যেখানে চিকিৎসকেরা পুনরায় একই পরীক্ষাগুলো করিয়ে থাকেন। এতে রোগীদের প্রচুর অর্থ ও সময় নষ্ট হয়। দেশে আন্তর্জাতিকমানের স্বীকৃত ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হলে রোগীরা দেশেই মূল পরীক্ষাগুলো করাতে পারবেন, যা তাদের চিকিৎসার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে।




























