ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রচারণা শুরু করেছেন। সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির (পিটি) এক সম্মেলনে ৮০ বছর বয়সী এই নেতা নিজেকে এমন একজন অভিজ্ঞ অভিভাবক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যিনি বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম।
সম্মেলনে লুলা ব্রাজিলের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি নিজেকে প্রস্তুত রাখতে চাই, যাতে কেউ এই দেশ আক্রমণ করতে না পারে।" সাবেক এই মেটালওয়ার্কার ও শ্রমিক নেতা তিন বছর আগে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর এখন তার চতুর্থ এবং শেষ মেয়াদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, চতুর্থ মেয়াদের পর তিনি আর নির্বাচন করবেন না।
সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে লড়ছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ফার্নান্দো হাদ্দাদ। সম্মেলনে লুলার প্রশংসা করে তিনি বলেন, "বিশ্ব এখন অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। আজ আমরা যুদ্ধ এবং উগ্র ডানপন্থার উত্থান দেখছি। এমন উত্তাল সময়ে আপনার একজন নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ নাবিক প্রয়োজন।"
লুলা ব্রাজিলের খনিজ সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, "চীনা, আমেরিকান বা ফরাসি—কেউই আমাদের বিরল খনিজ সম্পদের দখল নিতে পারবে না।" উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের পণ্য আমদানিতে দুই ধাপে শুল্ক আরোপ করেছে, যার কারণ হিসেবে তারা অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার অভিযোগ এনেছে।
সম্মেলনে ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরাল্ডো আলকমিনও বক্তব্য রাখেন এবং তিনি দেশটির ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেমের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন। এদিকে, ডাটফোলহার সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্যাভিও বলসোনারোর (সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র) চেয়ে তিনি ৪৮ শতাংশ থেকে ৪৩ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।































