বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে ঘিরে দীর্ঘদিনের নাটকীয়তার সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তার শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও, পরবর্তী সময়ে জামিন পাওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নতুন আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতার সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র মতে, বেনজীরকে দেশে এনে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে প্রধানত তিনটি বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, যার ফলে তাকে হস্তান্তরের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা আমিরাত সরকারের নেই। দ্বিতীয়ত, দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং বেনজীরের নিয়োগ করা আইনজীবীরা প্রত্যর্পণ নথিপত্রের বিপরীতে আদালতে জোরালো আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তৃতীয়ত, তার পলায়নের ঝুঁকি রয়েছে। যদিও আদালতের নির্দেশে তার পাসপোর্ট জব্দ ও আমিরাত ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবুও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে তিনি অন্য কোনো উপায়ে পালিয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া, তার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে নেপথ্যে প্রভাবশালী একটি পক্ষ কাজ করছে বলেও জানা গেছে।
বাংলাদেশ সরকার বেনজীরকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতা জোরদার করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর পারস্পরিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করেছে। পাশাপাশি, জামিন আদেশ বাতিলের জন্য দুবাইয়ে একটি ল ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে।
রোববার রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং সরকার এ বিষয়ে দুবাইয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। একই দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন যে, আমিরাত সরকারের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত আছে এবং দেশটির পক্ষ থেকে চাওয়া তথ্যগুলো সরবরাহ করা হয়েছে।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই দেশ ছাড়েন বেনজীর। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে। এরপর ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে, যার ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ১২ জুন আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিষয়টি অবহিত করে এবং ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠানোর বিষয়টি জানিয়েছিলেন। বর্তমানে নথি আদান-প্রদানের মাঝেই তার জামিনের খবরটি সামনে এলো।





























