যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন ও প্রতিবেশী ওরেগন অঙ্গরাজ্যজুড়ে চলা এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এই দাবানলে এ পর্যন্ত আড়াই লাখ একরেরও বেশি এলাকা পুড়ে গেছে এবং ৭ শতাধিক বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।
ওয়াশিংটনের স্পোকেন এলাকায় তিনটি দাবানল সম্মিলিতভাবে 'স্পোকেন এরিয়া ফায়ার' নামে পরিচিত। ৩ আগস্ট পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে ৭ হাজার ৭০০ একরের বেশি এলাকা ভস্মীভূত হয়েছে এবং এর নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার হার এখনো শূন্য শতাংশ। কেবল স্পোকেন এলাকাতেই গত সপ্তাহান্তে ৮ বর্গমাইল এলাকা পুড়ে গেছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় ৯০০ জনেরও বেশি দমকলকর্মী দিনরাত কাজ করছেন, যাদের মধ্যে রাজ্যের বাইরের কর্মীরাও রয়েছেন। ২ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, স্পোকেন এলাকায় অন্তত ৬০০টি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।
ওরেগনের পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চলতি বছর রাজ্যটিতে প্রায় ১৮ লাখ একর জমি পুড়ে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ। ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশজুড়ে ৪৪ হাজার ৭২২টি দাবানলে ৫১ লাখ ৫০ হাজার একরের বেশি জমি পুড়েছে। রেকর্ড অনুযায়ী, বছরের এই সময় পর্যন্ত এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত বছর। এর আগে ২০২২ সালে ৫৮ লাখ এবং ২০১৭ সালে ৫৭ লাখ একর জমি পুড়েছিল।
আবহাওয়া সংস্থা অ্যাকুওয়েদার জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহ, শুষ্ক আবহাওয়া এবং বজ্রপাতের কারণে প্যাসিফিক নর্থওয়েস্টে দাবানলের প্রকোপ বেড়েছে। আগস্ট মাসের ঐতিহাসিক শিখর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই এই অঞ্চলে ২০ লাখ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। আগামী কয়েকদিনেও এই অঞ্চলে প্রচণ্ড বাতাস ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ধোঁয়ার কারণে বায়ুর মান কমে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। যদিও বাতাসের গতিবেগ কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও উত্তর-পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।


























