ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলে ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ৭টার দিকে এই দুর্যোগটি ঘটে। স্থানীয় ডায়োসিসের জেনারেল ম্যানেজার মেগাবে হাদিস নেকা টিবেব আবাবুর ভাষ্যমতে, যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের অনেকেই সেখানে পবিত্র জল সংগ্রহের জন্য সমবেত হয়েছিলেন।
পাহাড়ের কাছাকাছি এই মঠ এলাকায় বিশাল বিশাল পাথর খসে পড়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও ভয়াবহ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কতজন নিখোঁজ রয়েছেন তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ কার্যালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধার কাজে সহায়তা করছে।
নিহতদের মধ্যে ১১ জনকে মঠের প্রাঙ্গণেই সমাহিত করা হয়েছে এবং অন্যদের মরদেহ তাদের নিজ নিজ এলাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে কিছু মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গুরুতর আহত সাতজনকে মঠ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার (৪৩ মাইল) দূরে অবস্থিত নর্থ শেওয়া প্রশাসনিক অঞ্চলের রাজধানী ডেবরে বিরহানে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ইথিওপিয়ায় সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল থাকে, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘কিরেমত’ বলা হয়। এই সময়ে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে ভূমিধসের ঘটনা বেড়ে যায়। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ২৫৭ জন নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া চলতি বছরের শুরুর দিকে গামো অঞ্চলেও প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইথিওপিয়ায় চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ বাড়ছে, আর গ্রামীণ অবকাঠামোর দুর্বলতার কারণে এসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঝুঁকি অনেক বেশি।



























