২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে রেকর্ড সংখ্যক আমেরিকান ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য পরামর্শ সেবা গ্রহণ করেছেন। দেশটির অন্যতম বৃহৎ অলাভজনক ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘মানি ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল’ (এমএমআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে প্রায় ১৫ হাজার নতুন গ্রাহক তাদের ঋণ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছেন, যা ২০১৭ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।
এমএমআই-এর তথ্যমতে, এই ছয় মাসে সংস্থাটি ৪০ হাজারেরও বেশি পরিবারকে আর্থিক পরামর্শ দিয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে এই পরামর্শ গ্রহণকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং ২০২১ সালের তুলনায় তা ১৪৩ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের মোট পারিবারিক ঋণের পরিমাণ ১৮.৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউ ইয়র্কের রেকর্ড অনুযায়ী সর্বকালের সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতির জন্য মূলত মুদ্রাস্ফীতিকে দায়ী করছেন। ২০২১ সালের শুরু থেকে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমএমআই-এর প্রধান ভোক্তা অর্থ বিশ্লেষক টেড রসমান বলেন, মহামারী পরবর্তী সময়ে প্রায় সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়া পারিবারিক বাজেটের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। নিউ ইয়র্কের সিরাকিউসের বাসিন্দা ৫৯ বছর বয়সী মিরিয়াম পেরেজ জানান, তার প্রিয় একটি পণ্যের দাম দেড় বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। করোনা মহামারীতে তার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়লে তিনি প্রায় ১ লাখ ডলারের ক্রেডিট কার্ড ঋণের মুখে পড়েন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি ডেট কনসলিডেশন বা ঋণ একত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে সাড়ে তিন বছরে তার সব ঋণ পরিশোধ করেন।
ঋণ একত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় সাধারণত একাধিক ঋণকে একটি মাসিক কিস্তিতে রূপান্তর করা হয় এবং পরামর্শদাতারা সুদের হার কমাতে সাহায্য করেন। তবে এর নেতিবাচক দিক হলো, কিস্তির পরিমাণ অনেক সময় বেশ বড় হয় এবং গ্রাহককে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার বন্ধ রাখতে হয়।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ঋণের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী জেন জি (Gen Z) তরুণরা এমএমআই-এর গ্রাহকদের মধ্যে দ্রুততম বর্ধনশীল অংশ, যাদের সংখ্যা গত এক বছরে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। ক্রেডিট কার্ডের উচ্চ সুদের হার—যা মে মাস পর্যন্ত প্রায় ২১ শতাংশ ছিল—নাগরিকদের ঋণের জালে আটকে ফেলছে। নিউ ইয়র্ক ফেডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ১৩ শতাংশ কার্ডের ব্যালেন্স অন্তত ৯০ দিন ধরে বকেয়া ছিল, যা ২০১১ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।
অনেকেই ব্যক্তিগত ঋণ বা পার্সোনাল লোন নিয়ে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ শোধের চেষ্টা করেন, কিন্তু এমএমআই-এর মতে এই পদ্ধতি সব সময় কার্যকর হয় না। নতুন গ্রাহকদের প্রায় অর্ধেকই ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন। রসমান পরামর্শ দেন যে, যাদের ঋণ কম এবং ক্রেডিট স্কোর ভালো, তারা জিরো-এপিআর (zero-APR) ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারেন। তবে যাদের ঋণ বেশি, তাদের জন্য ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ক্রেডিট কাউন্সেলিং-এর মতো নির্ভরযোগ্য সংস্থার পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


























