হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনের জন্য একটি নতুন নৌপথের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান ও ওমান। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি যৌথভাবে পরিচালনার বিষয়টি এখন দুই দেশের চূড়ান্ত পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, ওমানের সঙ্গে এই চুক্তি হলেও মার্কিন নৌ অবরোধ ও হুমকির কারণে এই জলসীমায় শেষ পর্যন্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গত বুধবার এই সমঝোতার কথা প্রথম প্রকাশ করেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশ যে পথ ব্যবহার করবে, তা নিয়ে একটি ঐকমত্য হয়েছে। কোনো তৃতীয় পক্ষ বাধা সৃষ্টি না করলে শিগগিরই এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হবে, যার খসড়া এখন চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে জলপথটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং আগ্রাসী পদক্ষেপের কারণেই হরমুজ প্রণালি এখনো অনিরাপদ রয়ে গেছে।
এদিকে, এই সমঝোতায় ইরানের সুবিধাই বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানান, নতুন নৌপথের বড় অংশটি ইরানের নিজস্ব জলসীমার ওপর দিয়ে যাবে এবং বাকি অংশ ওমানের জলসীমা অতিক্রম করবে। প্রাথমিকভাবে এই পথ দুই থেকে চার মাস ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরবর্তীতে আরও বাড়ানো হতে পারে। তেহরানভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান 'সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ'-এর গবেষক আলী আকবর দারেইনি আল-জাজিরাকে বলেন, এই যুদ্ধের মধ্যে ওমানের সঙ্গে এই সমঝোতা ইরানের সবচেয়ে বড় সামরিক অর্জন, যার মাধ্যমে তারা এই প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী করতে চায়।
এর আগে ওমান একটি ভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে মালাক্কা প্রণালির মতো হরমুজেও নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে সেবা ফি নেওয়া এবং পথটি দুই দেশের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করার কথা বলা হয়েছিল। তবে ইরান সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে পাল্টা প্রস্তাব দেয়, যার ভিত্তিতে এই আলোচনা সফল হয়। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর বড় হামলার হুমকি দিয়ে চুক্তির আগ্রহের কথা বললেও, তেহরান স্পষ্ট করেছে যে এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো, যা যুদ্ধ শুরুর পর কার্যত বন্ধ রাখে ইরান।



























