বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদফা দাবি ও গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিন ৫ আগস্ট সাভার এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ঢাকার দিকে রওনা হলে সাভারের প্রবেশপথে তাদের বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের বাধার মুখে আন্দোলনকারীরা সড়কেই অবস্থান নিলে সাভার নিউ মার্কেটের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে এলাকাটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে শ্রাবণ গাজী নামের এক শিক্ষার্থী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। নিহতের বাবা মান্নান গাজী জানান, সাভার নিউ মার্কেটের সামনে পুলিশি দমন-পীড়নের সময় তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সংঘর্ষের সময় আব্দুল আহাদ সৈকত, মো. হৃদয় আহমেদ, আলামিন হোসেন ও মিঠু বিশ্বাস মারুফসহ আরও বেশ কয়েকজন নিহত হন। এই ঘটনায় শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুপুরের দিকে সেনাপ্রধানের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। এরপর আন্দোলনকারীরা সাভার মডেল থানার দিকে অগ্রসর হলে পুনরায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় সাভার প্রেসক্লাব, পাবলিক লাইব্রেরি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিলে পুলিশ সদস্যরা থানা থেকে বেরিয়ে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা সাভার বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করে সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে আশ্রয় নেয়।
আন্দোলনে আহত মনঞ্জয় জানান, ৫ আগস্ট সাভার থানার সামনে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি হাত কেটে বাদ দিতে হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক সেলিম আহম্মেদ জানান, ৪ আগস্ট থেকেই সাভার থানা রোডে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, যা ৫ আগস্ট দুপুরে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে ঢাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) জাহাঙ্গীর আলম জানান, কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাভার ও ধামরাই এলাকায় শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ৫ আগস্টের সেই ভয়াবহ স্মৃতি সাভারের মানুষের মনে এখনো গভীর ক্ষত হয়ে আছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদফা দাবি ও গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিনে (৫ আগস্ট) ঢাকার প্রবেশদ্বার সাভারে দিনভর চলা তীব্র সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিবর্ষণে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় পুরো এলা
কোটা আন্দোলনে আহত মনঞ্জয় জানান, আমি ৫ আগস্ট সাভার থানার সামনে গেলে পুলিশ আমার হাতে গুলি করে।
ঘোষণা অনুসারে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে জড়ো হয়।
পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হতে থাকে ‘মার্চ টু ঢাকা’য় অংশ গ্রহণকারীর সংখ্যা।
এতে সাভারে শ্রাবণ গাজী নামে এক শিক্ষার্থী মাথায় গুলিবৃদ্ধ হয়ে মারা যান।
দুপুরে খবর আসে জাতির উদ্দেশ্যে সেনা প্রধান বক্তব্য দেবেন।
সেসময় আন্দোলকারীরা পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য অগ্রসর হয়।
তবে আন্দোলকারীরা পিছু না হটে সাভার সরকারি কলেজের সামনে অবস্থান নেন।
এর এক পর্যায়ে রক্তে লাল হয়ে ওঠে সাভার থানা রোডের সড়কের বিভিন্ন জায়গায়।
এসময় আন্দোলনকারীদের একটি অংশের লোকজন সাভার প্রেসক্লাব ভাঙচুরের চেষ্টা করে।
সূত্র: Dhaka Post


























