সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত অনেক প্রবাসী ফিলিপিনো কর্মীর (ওএফডব্লিউ) জন্য ছুটিতে ফিলিপাইন ভ্রমণ শেষে কর্মস্থলে ফেরাটা যেন এক দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরে আসা ভ্রমণকারীরা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ঝামেলা এড়াতে এই দুই ধরনের নথিপত্রই সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
অনেক ওএফডব্লিউর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফেরাটা কেবল চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স এবং ফ্লাইটে ওঠার মতো সাধারণ বিষয় হওয়ার কথা। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে একটি নথিপত্রই বিমানবন্দরের ভেতরে একাধিকবার ছোটাছুটি করা বা নির্বিঘ্নে যাত্রা করার মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।
যদিও ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স (ডিএমডব্লিউ) ২০২৩ সালে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সার্টিফিকেটের (ওইসি) ডিজিটাল বিকল্প হিসেবে ‘ওএফডব্লিউ পাস’ চালু করেছে, তবুও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ফিলিপিনো কর্মীরা গালফ নিউজকে জানিয়েছেন যে, বিমানবন্দরে এখনো তাদের মুদ্রিত ওইসি প্রদর্শনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
ওএফডব্লিউ পাস এবং ওইসির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, ওইসি ডিএমডব্লিউ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয় এবং এটি মাত্র ৬০ দিনের জন্য একবার ব্যবহারের উপযোগী। অন্যদিকে, ওএফডব্লিউ পাস ডিএমডব্লিউ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা ই-গভপিএইচ (eGovPH) অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং এটি কর্মীর কর্মসংস্থান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। বর্তমানে ২৪টি এয়ারলাইনস ওএফডব্লিউ পাস গ্রহণ করছে।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক জেন আদ্রিয়ানো আগস্ট মাসে ক্লার্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফেরার সময় এক দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হন। তিনি জানান, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা এখনো ওইসি খুঁজছেন। ওএফডব্লিউ পাস এখনো সব জায়গায় গৃহীত হচ্ছে না। এমনকি ই-ট্রাভেলের তথ্যও অনেক সময় ইমিগ্রেশন সিস্টেমে লিংক না থাকায় কাজে আসছে না।
আদ্রিয়ানো এমিরেটস এয়ারলাইনসে ভ্রমণের সময় চেক-ইন কাউন্টারে মুদ্রিত ওইসি আছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, “যেহেতু আমি তাকে বলেছিলাম আমার কাছে এটি নেই, তাই তিনি আমাকে বিমানবন্দরের অন্য পাশে থাকা ডিএমডব্লিউ কিওস্কে যেতে বলেন।”
কিওস্কে তাকে ডিএমডব্লিউ অনলাইন পোর্টালে লগইন করে ওইসির জন্য আবেদন করতে বলা হয়। সেখানে অনেক কর্মীকে পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে। মুদ্রিত কপি পাওয়ার পর তিনি এয়ারলাইন কাউন্টারে ফিরে আসেন, কিন্তু কর্মীরা হার্ড কপির বদলে সেটির ছবি তুলে রাখেন।
ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যাওয়ার পর তাকে আবারও ডিএমডব্লিউ কিওস্কে পাঠানো হয়। আদ্রিয়ানো বলেন, “কর্মকর্তা আমার কাগজপত্র দেখে একটি কাগজে কিছু লিখে দিলেন। তারপর আমাকে ওইসি যাচাই করার জন্য কিওস্কে ফিরে যেতে বলা হলো। তারা এটি ওইসি ইস্যু করার সময়ই করতে পারতেন।”
যাচাইকরণ শেষ করার পর আদ্রিয়ানোকে পুনরায় নিরাপত্তা তল্লাশি পার হয়ে ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়াতে হয়। তিনি বলেন, “যাচাইকৃত ওইসি দেখার পরই কেবল কর্মকর্তা আমার এক্সিট স্ট্যাম্প প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।” তিনি এই অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে বর্ণনা করেছেন।
জুলাই মাসে ম্যানিলার নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এনএআইএ) দিয়ে ফেরা কিডস ক্লাব কো-অর্ডিনেটর রেসি পিনেদা জানান, তার ক্ষেত্রেও ওইসি প্রয়োজনীয় ছিল। তিনি বলেন, “আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, রিফান্ড দাবি করার সময় ওইসি প্রয়োজন হয় এবং এর হার্ড কপি থাকা বাধ্যতামূলক।”
রিফান্ড দাবি করার পর তাকে ওএফডব্লিউ লেনে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পিনেদা জানান, সেখানে তারা কেবল ওইসি এবং ট্রাভেল পাস চেক করে এবং এরপর স্মার্ট গেটে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
তবে সবাই যে এমন বিলম্বের শিকার হচ্ছেন তা নয়। খাদ্য ও পানীয় সুপারভাইজার পাওলো লাগুনায় জুনিয়র এই মাসে ফিরে আসার সময় প্রথাগত নথিপত্রই ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এখনো ওএফডব্লিউ পাস ব্যবহার করে দেখিনি, তাই ওইসিই জমা দিয়েছি। এটি কোনো সমস্যা ছাড়াই কাজ করেছে।”
এনএআইএ-এর একজন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে উভয় নথিপত্রই সিস্টেমে স্বীকৃত। তিনি গালফ নিউজকে বলেন, “বর্তমানে ওইসি ব্যবহৃত হচ্ছে। যেহেতু ওএফডব্লিউদের ই-গেটের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হয়, তাই তাদের যাত্রার আগে বৈধ ওইসি বা ওএফডব্লিউ পাস থাকা আবশ্যক।”
তিনি আরও জানান, যদিও অনেক কর্মী এখনো ডিজিটাল সংস্করণে অভ্যস্ত হননি, তবে বৈধ যেকোনো একটি নথিপত্রই ই-গেট সিস্টেমের জন্য যথেষ্ট।
সূত্র: গালফ নিউজ


























