দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় এমন ব্যক্তিদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সচেতন থাকতে হবে। যারা শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। সন্তানদের সুন্দরভাবে লেখাপড়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্কুল-কলেজগুলোর মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে হলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, একইভাবে যারা সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করতে চায়, তাদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ বিভ্রান্তি ছড়ালে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ। বিভ্রান্তকারীরা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে সরে পড়ে, তারা জনগণের পাশে থাকে না। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, বাংলাদেশের মানুষ কি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, নাকি ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকবে? বিভ্রান্তকারীদের সঙ্গে থাকা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে দেশবাসীকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে গুটি কয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন অপরিকল্পিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, যা কখনোই জনগণের কল্যাণে ছিল না। সেই ত্রুটিপূর্ণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে ঢেলে সাজাতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে সেই সংস্কার কাজে হাত দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, খুব দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সামনে আগামী ১০ বছরের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করা হবে, যাতে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা এবং প্রতিটি বাসাবাড়িতে মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পেতে পারে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: মানবজমিন





























