দুবাইয়ের আবাসিক আবাসন বাজারে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্থবিরতার লক্ষণ স্পষ্ট হয়েছে। টানা কয়েক বছরের দ্রুত প্রবৃদ্ধির পর নতুন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের সক্রিয়তা কমে যাওয়ায় বাড়ি কেনা ও ভাড়ার দাম উভয়ই হ্রাস পেয়েছে। কুশম্যান অ্যান্ড ওয়েকফিল্ড কোরের তথ্য অনুযায়ী, শহরজুড়ে আবাসিক সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৪ শতাংশ এবং গড় ভাড়া ৬ শতাংশ কমেছে। বাজার এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত পাঁচ বছরের রেকর্ড প্রবৃদ্ধির পর এখন অ্যাপার্টমেন্ট ও ভিলা—উভয় খাতেই সংশোধনমূলক দরপতন দেখা যাচ্ছে। অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে পাম জুমেইরাহতে ৯ শতাংশ, ডাউনটাউন দুবাই ও বিজনেস বে-তে ৭ শতাংশ দাম কমেছে। তবে দুবাই হিলস এস্টেট (৪ শতাংশ) ও জুমেইরাহ ভিলেজ সার্কেলে (৩ শতাংশ) তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। ভিলার বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে; দ্য স্প্রিংস ও দ্য মেডোজে ৯ শতাংশ এবং দুবাই হিলস এস্টেটে ৫ শতাংশ দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে, পাম জুমেইরাহ ও জুমেইরাহ ভিলেজ সার্কেলে ভিলার দাম সামান্য বেড়েছে।
ভাড়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে, কারণ সাশ্রয়ী আবাসন খোঁজার প্রবণতা ভাড়াটেদের মধ্যে বাড়ছে। অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার ক্ষেত্রে ডাউনটাউন দুবাইয়ে ১৪ শতাংশ, দুবাই হিলস এস্টেট ও দুবাই মেরিনায় ১০ শতাংশ এবং পাম জুমেইরাহতে ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ভিলার ভাড়ার ক্ষেত্রে দুবাই হিলস এস্টেটে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ দরপতন রেকর্ড করা হয়েছে। এই সংশোধন প্রক্রিয়াটি গত বছরের শেষ দিক থেকে শুরু হয়েছিল, যখন সম্পত্তির দাম টানা দুই মাস কমে প্রতি বর্গফুট ১,৬৭৩ দিরহামে নেমে আসে।
বাজারের দাম কিছুটা নমনীয় হলেও নতুন আবাসন প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চলছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শোভা হার্টল্যান্ড, দামাক ল্যাগুন্স, জেবেল আলি ভিলেজ, দুবাই সায়েন্স পার্ক এবং দ্য ভ্যালিসহ মোট ১৩,২০০টিরও বেশি নতুন বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আরও প্রায় ৩২,০০০ নতুন ইউনিট বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে কুশম্যান অ্যান্ড ওয়েকফিল্ড সতর্ক করেছে যে, ঠিকাদারদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের জটিলতা আগামী মাসগুলোতে প্রকল্প হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও সামগ্রিকভাবে আবাসন সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রত্যাশার পার্থক্যের কারণে আগামীতে বাজারে আরও নমনীয়তা দেখা দিতে পারে, তবে প্রতিষ্ঠিত আবাসিক এলাকাগুলোতে চাহিদা অটুট থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: খালিজ টাইমস































