বিশ্বের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ড্যানিয়েল কিনাহানকে দুবাই থেকে আয়ারল্যান্ডে প্রত্যর্পণের পর ডাবলিনের একটি আদালতে হাজির করা হয়েছে। ৪৯ বছর বয়সী কিনাহানকে ১৮ অক্টোবর ২০১৫ থেকে ৬ এপ্রিল ২০১৭ সালের মধ্যে একটি অপরাধমূলক সংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টার পর আয়ারল্যান্ড সরকারের একটি বিশেষ বিমানে তাকে ডাবলিনে আনা হয়। বিমান থেকে নামার পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ডাবলিনের বিশেষ অপরাধ আদালতে ১৩ মিনিটের একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিনাহান প্রত্যর্পণ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন, তবে তার সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) এর আগে জানিয়েছিল যে, কিনাহান কার্টেল বিশ্বজুড়ে টন টন মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের সাথে জড়িত এবং এক ডজনেরও বেশি গ্যাংল্যান্ড হত্যাকাণ্ডের সাথে তাদের নাম উঠে এসেছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কিনাহান কার্টেলকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অপরাধী চক্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। আয়ারল্যান্ডে ফিরে আসার পর কিনাহানকে পুলিশি পাহারায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ক্রিমিনাল কোর্ট অফ জাস্টিসে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে সাংবাদিকদের ভিড় এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।
আদালতে বিচারক প্যাট্রিক ম্যাকগ্রা, সারাহ বার্কলে এবং ফিওনা লাইডনের সামনে কিনাহানকে একটি কাঠের বেঞ্চে বসে থাকতে দেখা যায়। তার কোনো আইনি প্রতিনিধি ছিল না এবং তিনি জানান যে এটি ব্যবস্থা করার মতো যথেষ্ট সময় তিনি পাননি। বিচারক তাকে জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করার সুযোগের কথা জানালে কিনাহান বলেন, "আমার মনে হয় আমরা সবাই জানি যে আমি জামিন পাব না, তবে আপনার সময়ের জন্য ধন্যবাদ।"
আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইরিশ বিচারমন্ত্রী জিম ও'ক্যালাহান এই ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে বিচারিক সহযোগিতার একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর আগে একই চুক্তির মাধ্যমে কিনাহান গ্রুপের জ্যেষ্ঠ সদস্য শন ম্যাকগভর্নকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, যাকে পরে ২৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সাবেক গার্দা কমিশনার ড্রিউ হ্যারিসের তথ্য অনুযায়ী, এই অপরাধী চক্র বিশ্বজুড়ে ১ বিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ উপার্জনের সাথে জড়িত। কিনাহান নিজেও ২০১৬ সালে ডাবলিনের একটি হোটেলে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। তার আইনজীবী বিবিসি প্যানোরামাকে পূর্বে জানিয়েছিলেন যে কিনাহানের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।





























