স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন—এমন বিষয়টি চূড়ান্ত ধরে নিয়ে দলটির ভেতরে ও বাইরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এই পরিবর্তনের ফলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হবেন, মন্ত্রিসভায় তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন এবং তার ছেড়ে দেওয়া সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের মতে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে স্থায়ী কমিটির একটি পদ এবং মন্ত্রিত্বের পদটি শূন্য হবে। তবে দলের চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে বা ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে, তাই স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে এখনই কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্পিকার হওয়ার কারণে স্থায়ী কমিটির একটি পদ শূন্য হয়েছিল, ফলে বর্তমানে নীতিনির্ধারণী ফোরামের দুটি পদ খালি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া স্থায়ী কমিটির শূন্য পদের জন্য ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক এবং রুহুল কবির রিজভীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মনে করেন, তরুণ কাউকে মহাসচিব করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপরই নির্ভর করছে।
এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী জানান, তিনি দলের প্রতি অনুগত থেকে কাজ করে যাচ্ছেন এবং দায়িত্বের বিষয়টি দলের নীতিনির্ধারকরাই চূড়ান্ত করবেন। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে রাজপথে দলের নেতৃত্ব ও অবদানের কারণে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রিজভীর সম্ভাবনা বেশি। তবে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার চেয়ারম্যানের রয়েছে। এছাড়া মহাসচিব হওয়ার আলোচনায় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও রয়েছে।
মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের বিষয়ে জনপ্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আসবে। এক্ষেত্রে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে অথবা বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে মন্ত্রিসভার এই রদবদল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
এদিকে মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসনটি শূন্য হলে সেখানে উপ-নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। ফখরুলের পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না, নাকি অন্য কাউকে প্রার্থী করা হবে—তা নিয়ে দলের ভেতরে নানা মত রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকেই তাকিয়ে আছেন নেতাকর্মীরা।
সম্ভাবনার কথা বলছি এই জন্য যে, বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাজপথে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের মধ্যে রুহুল কবির রিজভীর অবদান সবচেয়ে বেশি।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই দলের নেতাকর্মীদের পাশে এখনো অব্যাহত আছি।’
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়ে দলে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না।
দল আমাকে যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেটা বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের নীতিনির্ধারকরাই ঠিক করবেন।’
তবে মন্ত্রিসভায় এ ধরনের পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো অনানুষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
দলের গঠনতন্ত্রের ক্ষমতাবলে চেয়ারম্যানের সেই এখতিয়ার আছে।’
সূত্র: Dhaka Post































