কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া থেকে শাপলাপুর পর্যন্ত ৪ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণের কাজ বন বিভাগের আপত্তিতে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর অর্থায়নে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। তবে সংরক্ষিত বন আইনের দোহাই দিয়ে বন বিভাগ নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই উন্নয়ন কাজ থমকে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জে এম ঘাট-কালারমারছড়া সড়কটি গত ৭০ বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে সড়কটির অবস্থা এখন শোচনীয়। পূর্ব ফকিরজুম পাড়ার বাসিন্দা নবী জানান, রাস্তার দুই পাশ ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছে। শাপলাপুরের বাসিন্দা জাকের হুসাইন যোগ করেন, বর্ষাকালে এই পথে চলাচল চরম কষ্টের। রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া কিংবা কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে এলাকাবাসীকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হয়। ইতিমধ্যে সড়কের কিছু অংশে কংক্রিট ঢালাই ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হলেও বন বিভাগের বাধার মুখে বাকি কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলজিইডি।
এই পরিস্থিতিতে গত ২ জুলাই বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বন বিভাগ ও এলজিইডিসহ সরকারের ৯টি দপ্তরে চিঠি দিয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড় ও বনসমৃদ্ধ দ্বীপ এবং ১২ নম্বর পাহাড় মৌজাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম এ হাসান জানান, সংরক্ষিত বনের ভেতরে আগের চলাচলের পথ থাকতে পারে, কিন্তু সেটিকে পাকা সড়কে রূপান্তরের কোনো আইনি সুযোগ নেই। তার মতে, পাকা সড়ক হলে বনভূমিতে মানুষের অনুপ্রবেশ বাড়বে, যা গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে, এলজিইডি মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী বনি আমিন জনি জানান, এটি তাদের গেজেটভুক্ত একটি সড়ক। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মহেশখালী থানার ওসি আব্দুস সুলতানও জনস্বার্থে সড়কটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সর্বশেষ আইনি জটিলতায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ কালারমারছড়া থেকে শাপলাপুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আদালত আগামী দুই মাসের জন্য এই নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সড়কটি নির্মাণে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে প্রায় ২২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও সংরক্ষিত বন আইনের বিষয়টি সামনে এনে কাজে বাধা দিয়েছে বন বিভাগ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জে এম ঘাট-কালারমারছড়া সড়কের চরম দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে পূর্ব ফকিরজুম পাড়ার নবী বলেন, গত ৭০ বছর ধরে ব্যবহৃত এই আঞ্চলিক পথটি পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
































