দক্ষিণ কোরিয়ায় গোয়েন্দাগিরি ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চীনের সামরিক বাহিনীর সাবেক দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের যোগাযোগে আড়িপাতা এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও মহড়ার তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার সিউল পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনদের মধ্যে একজনের বয়স ৬০ বছরের কাছাকাছি। তিনি চীনের সাবেক সেনা সদস্য। দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান ঘাঁটির কাছে একটি হোটেলে তিনি আড়িপাতার সরঞ্জাম স্থাপন করেছিলেন। একটি সফটওয়্যার-ডিফাইন্ড রেডিও রিসিভার, অ্যান্টেনাসহ ল্যাপটপ ব্যবহার করে ২০২৪ সাল থেকে তিনি যৌথ বাহিনীর যুদ্ধবিমান এবং গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের মধ্যকার কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করছিলেন। শত্রু পক্ষকে সহায়তা করা এবং যোগাযোগ সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষার আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত সোমবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি এই তথ্যগুলো চীনের কর্তৃপক্ষের কাছে পাচার করেছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তার ল্যাপটপটি ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।
সোমবার গ্রেফতার হওয়া অপর সন্দেহভাজন ব্যক্তিটির বয়স ৪০-এর কোঠায়। তিনিও চীনের সামরিক বাহিনীতে কাজ করতেন। সিউলের কাছে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সদর দফতর থেকে অবৈধভাবে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি যৌথ সামরিক মহড়া, অস্ত্রের গতিবিধির ছবি এবং শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের রদবদলের তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। মার্কিন কমান্ডে কর্মরত এক দক্ষিণ কোরীয় নারীর কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে তিনি এসব তথ্য পান বলে পুলিশের দাবি। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, মার্কিন কমান্ডের কাছে তার একটি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের দোকান রয়েছে এবং ব্যবসার সুবিধার্থেই তিনি এসব তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে শত্রু পক্ষকে সহায়তা এবং সামরিক স্থাপনা রক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই গ্রেফতারের বিষয়ে সিউলে অবস্থিত চীনা দূতাবাসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার ঠিক আগেই এই গ্রেফতারের খবর সামনে এল। উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮,৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।































