যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাই নির্বাচনে (প্রাইমারি) বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ইলহান ওমর। এর মাধ্যমে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার দৌড়ে নিজের দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করলেন তিনি। ২০১৮ সাল থেকে এই আসনটির প্রতিনিধিত্ব করছেন ইলহান। এবার প্রাইমারিতে তিনি ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন, যা এই ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্র্যাট-প্রভাবিত অবস্থানের প্রতিফলন।
প্রাক্তন মার্কিন অ্যাটর্নি জুলি টি লে, আবেনা ম্যাকেঞ্জি, লাটোনিয়া রিভস ও নাট শ্লুটার ছিলেন ইলহানের প্রতিদ্বন্দ্বী। রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে জন নাগেল ৫২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রাইমারিতে জয়ী হতে পারেন বলে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, সাবেক অ্যাটর্নি জুলি টি লে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর সময় সেন্ট পল ফেডারেল আদালতে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার পর আলোচনায় এসেছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি বিচারকের কাছে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, যাতে তিনি অন্তত ২৪ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পান।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ইলহান ওমর এর আগে সাধারণ নির্বাচনে ৫০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এবং ২০২৪ সালের প্রাইমারিতে ১৩ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছেন। তাঁর নাগরিকত্ব ও সোমালি ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাঁর ও স্বামী টিম মাইনেটের আর্থিক লেনদেন নিয়েও নানা সময় তদন্ত করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিকে এসে ইলহান ওমরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত সোমবার রিচফিল্ডে একটি টাউন হল মিটিংয়ের বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন তদন্তকারীকে দেখা গেছে বলে জানান ইলহান। তিনি এক বিবৃতিতে প্রশ্ন তুলেছেন, ভুয়া প্লেট নম্বরের গাড়িতে করে একজন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ট কেন তাঁর অনুষ্ঠানের বাইরে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে পুলিশকে এই রহস্যময় ঘটনার তদন্তে সময় ব্যয় করতে হয়েছে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইলহান ওমরের দিকে এক ব্যক্তি তেড়ে এসেছিলেন। ওই সময় হামলাকারী তাঁর ওপর তরল পদার্থ ছুড়ে মারেন, যা পরে আপেল সিডার ভিনেগার হিসেবে শনাক্ত হয়। ওই ঘটনার পর ইলহান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, তিনি ভয় পাওয়ার পাত্র নন এবং যারা তাঁকে দমানোর চেষ্টা করছে, তারা ভুল মানুষকে বেছে নিয়েছে।
নিজের নির্বাচনী এলাকায় ইলহান ওমরের জনপ্রিয়তা অটুট রয়েছে। এবার বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি না হয়েও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করলেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রভাবশালী নেতা আগামী নির্বাচনেও নিজের জয়ের ধারা বজায় রাখতে আত্মবিশ্বাসী।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিষয়ক কঠোর ব্যবস্থার বিরোধিতা করাকে যিনি অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে মনে করেন, সেই ইলহান তাঁর শেষ সাধারণ নির্বাচনে ৫০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এবং ২০২৪ সালের প্রাইমারিতে ১৩ পয়েন্টের ব
এক মাসেরও কম সময়ে প্রায় ৯০টি অভিবাসন মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর, নিজে একজন অভিবাসী হয়েও লে নাকি বিচারকের কাছে অনুরোধ করেছিলেন, তাঁকে যেন আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়—যাতে তিনি ‘পুরো ২৪ ঘণ্টা ঘুমাতে পারেন’।
তিনি প্রতিনিধি পরিষদের এই আসন থেকে চারবার কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এই পঞ্চম ডিস্ট্রিক্টটি মিনেসোটা তথা পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ডেমোক্র্যাট-প্রভাবিত এলাকা।
লে আরও যোগ করেছিলেন, ‘এই ব্যবস্থার কোনো মানে হয় না, এ চাকরিটাও বাজে।’
অবশ্য বহু বছর ধরেই তিনি ট্রাম্প এবং তাঁর ‘মাগা’ (এমএজিএ) সমর্থকদের নিয়মিত আক্রমণের শিকার হয়ে আসছেন।
সূত্র: প্রথম আলো




























