প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং তাদের ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ইউ এস বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের জন্য সব ধরণের সরকারি সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বেসরকারি খাতনির্ভর একটি নিয়মভিত্তিক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই রূপান্তরে মার্কিন ব্যবসাগুলো আমাদের অংশীদার হিসেবে কাজ করুক। সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজীকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন অ্যাক্সেলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশাপ। প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থ, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকস খাতকে মার্কিন ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নতি, মুনাফা প্রত্যাবাসন সহজ করা এবং সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশনে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি অবকাঠামো, বন্দর ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ওপর জোর দেন। ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায়ী ছিলেন, তাই ব্যবসার জন্য সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশের গুরুত্ব তিনি বোঝেন। তিনি সফররত নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়ে শুনতে এবং সাড়া দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, আপনারা পুরো সরকারকেই আপনাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন। এই বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধিদলটি এর আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ নিয়ে কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে। তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, এসব বৈঠক বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে সফররত ব্যবসায়ী নেতাদের আরও স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। তিনি তাদের সফল সফর কামনা করেন এবং সরকার সব ধরনের সম্ভাব্য সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে পুনরায় নিশ্চিত করেন।




























