আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে নিবিড় যোগাযোগ চলছে। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে এই সফর চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে গত চার দিন ধরে দুই পক্ষই আলোচনার মধ্যে রয়েছে। সফরের দিনক্ষণ এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই বর্তমান কূটনৈতিক আলোচনার মূল লক্ষ্য। এ বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকনির্দেশনা নিতে এবং ঢাকার বার্তা পৌঁছে দিতে বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি সেখানে ভারতের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। আজ শুক্রবার তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। ঢাকায় ফিরে তিনি সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
এদিকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না—এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনলাইনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি করার সুযোগ দেওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে বসে কথা বলবেন—এটি বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেয়নি। তিনি আরও বলেন, যেকোনো সময় দুই দেশের প্রধানরা বসলে অনেক সমস্যা সমাধানের সুযোগ থাকে এবং ভারত যেন সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে, তা বাংলাদেশ আশা করে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভারত বা জাপান সফরের কোনো চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, পার্লামেন্ট সেশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও সরকারি কর্মসূচির ব্যস্ততার কারণে সময় নির্ধারণে কিছুটা সময় লাগছে। তবে সরকার সব দেশেই সফরের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সময় ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


























