অধিকৃত পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামের প্রায় এক ডজন ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। গ্রামের অন্যান্য স্থানে আরও ১১টি বাড়ির বাসিন্দাদেরও সেনাবাহিনী বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। একটি সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তবে কুসরার মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি জানিয়েছেন, গ্রামটিকে একটি অবরুদ্ধ সামরিক অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী অনেক খালি বাড়িকে ব্যারাক হিসেবে ব্যবহার করছে।
বসতি স্থাপনকারীরা গত রবিবার থেকে কুসরায় তিনটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি ঘিরে রেখেছিল, যার ফলে ওই পরিবারগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আবু রিদি ও হাসান পরিবারের সদস্য কুসায়ে আবু রিদি জানিয়েছেন, বাড়িটিতে রাতে পুনরায় হামলা হয়েছে এবং কিছু বসতি স্থাপনকারী এখনো এলাকায় লুকিয়ে আছে। তার ভাই, যিনি এই সম্পত্তির মালিক, তিনি একজন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ব্যবসায়ী এবং এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের কাছে অভিযোগ করেছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বসতি স্থাপনকারীদের এই কাজকে ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের অভিযানের লক্ষ্য হলো বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ইসরায়েলি মুখপাত্র ডেভিড মেনসার বসতি স্থাপনকারীদের এই কর্মকাণ্ডকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, সরকার এর তদন্ত করবে এবং দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার করা হবে। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাহের ওদেহ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে ২০ থেকে ৩০ জন সৈন্য তার বাড়িতে ঢুকে দরজা ভেঙে ফেলে এবং তাদেরকে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করে। পরে এলাকাটি সম্পূর্ণ সিলগালা করে দেওয়া হয়।
প্রায় ১০ ঘণ্টা পর কিছু পরিবারকে ঘরে ফেরার অনুমতি দেওয়া হলেও তারা সবকিছু তছনছ অবস্থায় পায়। এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, সৈন্যরা ফ্রিজ থেকে খাবার ফেলে দিয়েছে এবং ১৫০০ ডলার নগদ অর্থ (১,১১২ পাউন্ড) চুরি করেছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) কোনো মন্তব্য করেনি। আইডিএফ দাবি করেছে, সৈন্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যাতে বাসিন্দারা তাদের বাড়িতেই থাকেন এবং বসতি স্থাপনকারীদের অবরোধের শিকার বাড়িতে তারা অভিযান চালাবে না।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে পশ্চিম তীরের ১২৭টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় পূর্ণ বা আংশিক বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি সম্প্রদায় পুরোপুরি বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এতে ৬,৩৯০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বছর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ১৮ জন শিশুসহ ৭৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের সাথে সংঘর্ষে এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের কথিত গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনায় তিন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সব বসতি অবৈধ হলেও ইসরায়েলি সরকার বর্তমানে এগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণকে উৎসাহিত করছে।




























