ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে ৭.৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে (২১:৫৮ জিএমটি শুক্রবার) আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার (৪২ মাইল) উত্তর-উত্তর পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল)।
ভূমিকম্পের পর আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ৫.৯, ৫.৬ এবং ৬.১ মাত্রার তিনটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবির (BNPB) এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের আঘাতে এল সে মাউমেরে বন্দরে এক নারী ও এক পুরুষ মারা গেছেন এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের ফুটেজে মাউমেরে অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি (BMKG) উপকূলীয় বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে সরে গিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিএনপিবির কর্মকর্তা আব্দুল মুহারি এক বিবৃতিতে বলেন, “ফ্লোরেসের উত্তর উপকূল, দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপসমূহ এবং পুরো দক্ষিণ অঞ্চল জুড়ে বসবাসরত আমাদের কমিউনিটিকে অবিলম্বে স্ব-উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ করছি।”
স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম কম্পাস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুহারি বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “উপকূল থেকে দূরে সরে যান, হয় কমপক্ষে দুই কিলোমিটার ভেতরে চলে যান অথবা অন্তত ১০ মিটার (৩৩ ফুট) উঁচু পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিন।” এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে যে, এই ভূমিকম্পের ফলে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড বা তাদের কোনো দ্বীপ ও ভূখণ্ডে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরেস দ্বীপের প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ তীব্র কম্পন অনুভব করেছেন এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষ মাঝারি থেকে শক্তিশালী কম্পন টের পেয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় আরও আফটারশকের ঝুঁকি নিরূপণে কাজ করছে।
উল্লেখ্য যে, প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত ২৭ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় “রিং অফ ফায়ার”-এ অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে একই উপকূলীয় অঞ্চলে অনুরূপ শক্তিশালী এক ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামির আঘাতে ফ্লোরেসে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা





























