শনিবার (১৫ আগস্ট) লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনারা হুলা এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে টাইর জেলার ওয়াদি আদশিত আল-কুসাইর ও মানসুরি শহরেও আক্রমণ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল-মানারের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠে হামলা চালিয়েছে এবং একটি সামরিক হেলিকপ্টার আলি আল-তাহের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়েছে। আল-মানার আরও অভিযোগ করেছে যে, এসব হামলায় ফসফরাস শেলসহ নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
একই দিনে দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকাতেও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, হামলার ফলে আল-রাফিদ শহরের কৃষিজমিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে, যা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ মাসে (২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে) ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১২ হাজার ২৭৭ জনের বেশি মানুষ এবং প্রায় ১৫ লাখের বেশি নাগরিক ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে, হিজবুল্লাহ নেতা শেখ নাইম কাসেম ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এই আলোচনাকে মার্কিন-ইসরায়েলি দাবির কাছে লেবাননের সার্বভৌমত্ব সমর্পণের শামিল বলে অভিহিত করেছেন। নাইম কাসেম সরকারকে এই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে এটিকে ব্যর্থ ও অপমানজনক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর অস্ত্রসম্ভারকে লক্ষ্যবস্তু করলেও ইসরায়েলের চুক্তি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বরের চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।






























