মিয়ানমারে চলমান তীব্র বন্যা ও গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে তীব্র ডায়রিয়ার প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা ইতিমধ্যে নানা সংকটে জর্জরিত দেশটির সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন 'মিয়ানমা আলিন' পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত চার দিনে ইয়াঙ্গুন জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৮২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৯৩ জনের শরীরে ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী প্যাথোজেনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তবে ওই প্রতিবেদনে প্যাথোজেনের সুনির্দিষ্ট ধরন বা এগুলো কলেরা কি না, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।
অবশ্য ইয়াঙ্গুনের লাথা টাউনশিপের আইনপ্রণেতা আয়ে মিয়া থে ফিউ-এর বরাত দিয়ে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম 'ইলেভেন মিডিয়া' গত বুধবার জানিয়েছিল, প্যাথোজেন শনাক্ত হওয়া রোগীরা মূলত কলেরায় আক্রান্ত। এছাড়া, দেশটির সামরিক বাহিনীর তথ্য সরবরাহকারী দল গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছে, এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯২ বছর বয়সী এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
ইয়াঙ্গুন জেনারেল হাসপাতালের ডেপুটি মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট অং লিন আয়ে শুক্রবারের পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে বলেন, গত কয়েক দিনে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের মৃত্যু ঠেকাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
ইয়াঙ্গুন আঞ্চলিক জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান নান্দা উইন জানিয়েছেন, আক্রান্তদের বড় অংশই ইয়াঙ্গুনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত চায়নাটাউন এলাকার বাসিন্দা। এই এলাকায় প্রচুর স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা, রেস্তোরাঁ ও বার রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের পার্সেল খাবার এবং তাদের ব্যবহৃত দূষিত পানি এই রোগের সম্ভাব্য উৎস হতে পারে। তবে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, আরেকটি রাষ্ট্রীয় পত্রিকা 'গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার' জানিয়েছে, রোগ ছড়ানো রোধ করতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ খাবার বিক্রি করা স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের তিন দিনের জন্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চায়নাটাউনের তিনটি বার ও রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) কাছে তিন দিনের জন্য তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বর্ষাকালে ইয়াঙ্গুনে তীব্র ডায়রিয়ার প্রকোপ একটি নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইয়াঙ্গুনে ২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ তীব্র ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, যার মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।






























