লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার ভোরে দক্ষিণ লেবাননের আনসার গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতাকারী শান্তি চুক্তির পর থেকে লেবাননে চালানো সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম শুক্রবার এক ভাষণে এই শান্তি কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তিটি মূলত ইসরায়েলের তৈরি একটি নির্দেশনামা, যা লেবাননের কর্তৃপক্ষ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং লেবানন সেনাবাহিনী পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না নেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি এই শর্তগুলোকে আত্মসমর্পণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সেনাদের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ লেবাননের একটি নিরাপত্তা অঞ্চলে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের একটি বড় অংশ দখল করে নেয়। উত্তর ইসরায়েলকে আরও হামলার হাত থেকে রক্ষা করতে সেখানে সেনা মোতায়েন বজায় রাখার কথা জানিয়েছে তেল আবিব।
গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবানন সফরকালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট করেছেন যে, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত দখলকৃত অঞ্চল থেকে তারা সেনা প্রত্যাহার করবে না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় স্থায়ী ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি লেবানন সরকারের সঙ্গে করা চুক্তির অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের নতুন পর্যায়ে লেবাননে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪,৩০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
সূত্র: Gulf Today































