দীর্ঘ চার দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ চালু হওয়ার পর শনিবার সকাল থেকে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে শিল্পাঞ্চলটি পুনরায় কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে।
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং শনিবার সকাল নাগাদ তা কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। বড় ধরনের কোনো কারিগরি ত্রুটি না থাকলে শনিবারের মধ্যেই সরবরাহ পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার জানান, রাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে গ্যাস পাওয়া শুরু হয় এবং সকাল ৬টার দিকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কারখানার কার্যক্রম চালু করা হয়। জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষও চিঠির মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, কারখানা বন্ধ থাকলে মালিকপক্ষের দুশ্চিন্তা বাড়ে, তাই গ্যাস সরবরাহ নিয়মিত ও স্বাভাবিক থাকাই তাদের প্রত্যাশা।
স্কয়ার ডেনিম লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন জানান, শুক্রবার রাত থেকেই কিছুটা গ্যাস পাওয়া শুরু হলেও শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায়। সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ার পর জেনারেটর চালিয়ে কারখানার উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর কারখানা সচল হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই থেকে হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট প্রকট হতে থাকে। প্রায় ২০ দিন ধরে সরবরাহ কম থাকার পর গত বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জেলার ১৭১টি শিল্পকারখানার অধিকাংশের উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে এবং প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। কারখানা বন্ধ থাকায় মালিকপক্ষকে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে, যার বড় একটি অংশ রপ্তানি আয়ের সঙ্গে জড়িত। অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কায়ও ছিল।
কারখানা সচল হওয়ায় শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। হাফিজুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় চাকরি হারানোর এবং বেতন না পাওয়ার দুশ্চিন্তা ছিল। মানিক মিয়া ও শিউলি আক্তারের মতো কর্মীরাও কাজে ফিরতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে সংসার চালানো এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ত। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ছাঁটাই করেনি, বরং অনেকে সাময়িক ছুটি দিয়েছিলেন। শনিবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় তারা আবার কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন। দীর্ঘ চার দিনের স্থবিরতার পর শ্রমিকদের পদচারণায় ফের মুখর হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল।




























