বিশ্বজুড়ে হোয়াটসঅ্যাপের তিন বিলিয়নেরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে। এই বিশাল ব্যবহারকারী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে প্রতারকরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মে একটি নতুন ফিচার পরীক্ষা করছে, যা ব্যবহারকারীদের সম্ভাব্য প্রতারণামূলক মেসেজ সম্পর্কে সতর্ক করবে।
মেটা জানিয়েছে, ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’ নামের এই ফিচারটি ঐচ্ছিক। এটি ডিভাইসের নিজস্ব মেশিন লার্নিং মডেল ব্যবহার করে সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করবে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে এই ফিচারটি পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে সব ব্যবহারকারীর জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে।
গত জুন মাসের শেষের দিকে হোয়াটসঅ্যাপ ঘোষণা করেছিল যে, এখন থেকে ব্যবহারকারীদের চ্যাট করার জন্য ফোন নম্বর শেয়ার করার প্রয়োজন হবে না। এর পরিবর্তে তারা অনন্য ইউজারনেম ব্যবহার করতে পারবেন। মেটার ভাষ্যমতে, এই পদক্ষেপটি মূলত ব্যবহারকারীদের ফোন নম্বরের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের ফলে প্রতারকরা ইউজারনেম ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় ধারণ করতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই উদ্বেগ নিরসনেই এই নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল হার্ডওয়্যারে সরাসরি টেক্সট ক্লাসিফিকেশন বা মেসেজ বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। ব্যবহারকারী যখন এই ফিচারটি চালু করবেন, তখন এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি মেশিন লার্নিং মডেল ডাউনলোড করবে। এরপর অপরিচিত নম্বর থেকে আসা মেসেজগুলো প্রতারণামূলক কি না, তা এই মডেল যাচাই করবে। মডেলটি মূলত বিভিন্ন প্রতারণামূলক কথোপকথনের ধরন এবং ভাষাগত সংকেতের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
মেটা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, কোনো মেসেজের বিষয়বস্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে পাঠানো হয় না। পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই সম্পন্ন হয়। যদি কোনো মেসেজকে প্রতারণামূলক হিসেবে শনাক্ত করা হয়, তবে ব্যবহারকারী চ্যাট বক্সে একটি সতর্কবার্তা দেখতে পাবেন, যা অন্য পক্ষ দেখতে পাবে না। এরপর ব্যবহারকারী চাইলে সেই চ্যাট ব্লক বা রিপোর্ট করতে পারবেন।
যদি কোনো ব্যবহারকারী মনে করেন যে সতর্কবার্তাটি ভুলবশত এসেছে, তবে তিনি চ্যাটটিকে ‘ট্রাস্টেড’ বা বিশ্বস্ত হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন। এতে সতর্কবার্তাটি মুছে যাবে এবং পরবর্তীতে ওই চ্যাটে আর কোনো সতর্কতা আসবে না। এছাড়া, ব্যবহারকারী চাইলে সর্বশেষ পাঁচটি মেসেজ হোয়াটসঅ্যাপের সাথে শেয়ার করে এই ফিচারের নির্ভুলতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারেন।
মেটা আরও নিশ্চিত করেছে যে, ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য সার্ভারে পাঠানো হয় না। ব্যবহারকারী নিজে থেকে রিপোর্ট না করলে কোনো মেসেজের তথ্য বা প্রতারণা শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি হোয়াটসঅ্যাপের সার্ভারে পৌঁছায় না। এটি পুরোপুরি ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি ফিচার, যা যেকোনো সময় চালু বা বন্ধ করা সম্ভব। বর্তমানে ফিচারটি বেটা সংস্করণে পরীক্ষাধীন রয়েছে, তবে এটি কবে নাগাদ সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে মেটা এখনো কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি।
সূত্র: খালিজ টাইমস






























