কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আজ যে মাছ অবমুক্ত করা হলো, তা বড় হয়ে বংশবিস্তার করলে এবং বিভিন্ন খালে-বিলে ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষই উপকৃত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন তুলে ধরে বলেন, তাদের রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের সাধারণ মানুষ ও গ্রামের মানুষের উন্নয়ন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে বিজয়ী করেছে যাতে তাদের কল্যাণমুখী রাজনীতি বাস্তবায়িত হয়। এই রাজনীতিই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের পর সারা দেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাচ্ছেন এবং খালের আশপাশের বাসিন্দারাও পানির সুফল ভোগ করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল খাল খনন করলেই হবে না, বরং খালের পানি ও জলাশয়গুলোকে কৃষিকাজ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য নদী ও বড় খালে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তাই তাদের পিছিয়ে রেখে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলের কথা স্মরণ করে বলেন, সে সময় নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছিল। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রায় তাদের সমান অংশীদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় সকাল থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যায় এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর শাহে আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সূত্র: Dhaka Post






























