পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মতো সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বান্দরবানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বান্দরবান প্রেসক্লাব চত্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘অস্ত্রের ঝনঝনানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করো’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষ অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে রয়েছেন। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে কৃষক, সবজি উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী, নির্মাণশ্রমিক ও দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবহন ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে এই চাঁদাবাজির প্রভাব পড়ছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে।
বক্তারা আরও বলেন, চাঁদাবাজির পাশাপাশি অপহরণ, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় পাহাড়ের জনজীবনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি নির্মূল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অস্ত্রের রাজনীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মন্তব্য করেন। এছাড়া প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার মাধ্যমে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান। পিসিএনপি বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সভাপতি আশিফ ইকবালসহ স্থানীয় নেতারা। মানববন্ধন থেকে পাহাড়ের মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ































