আবু ধাবির আল ধাফরা অঞ্চলের শাসকের প্রতিনিধি এবং এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি – আবু ধাবির (EAD) চেয়ারম্যান শেখ হামদান বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, আমিরাতে প্রজাতি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুরক্ষার লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ২ নম্বর রেজোলিউশন জারি করেছেন। এই রেজোলিউশনটি মূলত জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বাস্তুসংস্থানের স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষার সাথে টেকসই উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি ইএডি-এর জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং স্থানীয় প্রজাতি ও তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষার চলমান প্রচেষ্টার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাস্তুসংস্থানের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই নতুন আইনি কাঠামোটি আবু ধাবির পরিবেশগত আইন ও প্রবিধানের একটি অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যা প্রকৃতি রক্ষা, বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমিরাতের কৌশলগত লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। রেজোলিউশনটি স্থলজ ও সামুদ্রিক প্রজাতি এবং তাদের আবাসস্থল রক্ষার জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে। এর আওতায় আবাসস্থলের স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষ এলাকা নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত আবাসস্থল ও প্রজাতিগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি আমিরাতের পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রেজোলিউশনের বিধানগুলো আবু ধাবির সমস্ত স্থলজ ও সামুদ্রিক আবাসস্থলের ওপর প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে সংরক্ষিত এলাকার বাইরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য এলাকা এবং ইএডি কর্তৃক অনুমোদিত তালিকায় থাকা সমস্ত স্থানীয় ও পরিযায়ী প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে, আক্রমণাত্মক এবং অ-স্থানীয় প্রজাতিগুলোকে এই বিধানের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া, রেজোলিউশনে প্রজাতি ও আবাসস্থল সুরক্ষার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত মানদণ্ড ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি আমিরাতের প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রজাতি ও আবাসস্থল রক্ষার প্রতি আবু ধাবির অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
পরিশেষে, এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি – আবু ধাবি (EAD) সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণকে এই রেজোলিউশনে উল্লিখিত নিয়ম ও পদ্ধতিগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পরিবেশ রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এই রেজোলিউশনটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আবু ধাবি একটি টেকসই এবং পরিবেশগতভাবে স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ইএডি আশা করছে যে, এই নতুন আইনি বাধ্যবাধকতাগুলো আমিরাতের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
সূত্র: Gulf Today































