মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, প্রসিকিউশনের বিষয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতামত বিবেচনা করবেন। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস থেকে বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার বিষয়টিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গত ১৬ আগস্ট এনবিসি নিউজের "মিট দ্য প্রেস" অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, "আমি কি কোনো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মতামত বিবেচনা করব? হ্যাঁ, অবশ্যই করব।" হোয়াইট হাউস থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো প্রতিশ্রুতি দেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "না, আমি সেই প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছি না।"
ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পদত্যাগের পর থেকে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) সাধারণত হোয়াইট হাউস থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে আসছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর বিচার বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ডজন ডজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা এবং হাজার হাজার আইনজীবীর বিদায় নেওয়া। সমালোচকদের দাবি, বিচার বিভাগকে এখন ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিশানা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সিনেটে স্বল্প ব্যবধানে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পর ব্ল্যাঞ্চের এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হলো। এর আগে গত এপ্রিল থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী ব্ল্যাঞ্চ গত মে মাসে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বলেছিলেন, বিচার বিভাগ নীতিগত দিকনির্দেশনা "প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে" গ্রহণ করে। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে প্রেসিডেন্টের "নির্বাহী ক্ষমতা"র কথা উল্লেখ করে লিখেছিলেন, "বিচার বিভাগ হলো নির্বাহী বিভাগেরই একটি অংশ।"
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মামলার বিচার চেয়ে সরব হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের ক্ষতি করার অভিযোগে এক অলিম্পিয়ানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের জন্য ইউএস অ্যাটর্নি জেনিন পিরোকে বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখতে বলেন। এ বিষয়ে ব্ল্যাঞ্চ বলেন, তিনি পিরোকে সমর্থন করেন এবং সেখানে ভাঙচুরের সম্ভাবনা ছিল। তবে পিরোর কার্যালয় আগেই জানিয়েছিল, ভাঙচুর নয় বরং ঠিকাদারদের কাজের ত্রুটির কারণে পুলটির অবস্থার অবনতি হয়েছিল। ব্ল্যাঞ্চ বলেন, "প্রেসিডেন্ট এই মামলার বিষয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং আমি তাকে মোটেও দোষ দিই না। তবে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিল কি না, তা ভিন্ন বিষয়।"
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের এক পোস্টে ট্রাম্প সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি, সিনেটর অ্যাডাম শিফ এবং নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমসের বিচারের দাবি জানিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের সেই পোস্টে লেখা ছিল, "তারা সবাই চরম অপরাধী, কিন্তু কিছুই করা হচ্ছে না। আমরা আর দেরি করতে পারি না, এটি আমাদের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে। তারা আমাকে দুবার ইমপিচ করেছে এবং অভিযুক্ত করেছে (৫ বার!)।"
ট্রাম্পের সেই পোস্টের পর বিচার বিভাগ কোমির বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে। প্রথম মামলাটি ছিল কংগ্রেসে মিথ্যা বলার অভিযোগে, যা পরবর্তীতে খারিজ হয়ে যায়। আদালত জানায়, মামলা পরিচালনাকারী প্রসিকিউটর লিন্ডসে হ্যালিগানকে (ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী) অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বিচার বিভাগ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। কোমি তার দ্বিতীয় মামলাটি খারিজের জন্য আবেদন করেছেন, যা ট্রাম্পকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সমুদ্রের শামুক-ঝিনুকের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি থেকে তৈরি হয়েছিল। এছাড়া, চলতি বছরের শুরুতে ব্ল্যাঞ্চ ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার পর নর্থ ক্যারোলিনার একটি গ্র্যান্ড জুরি থেকে কোমির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আনা হয়েছিল।
অন্যদিকে, বিচার বিভাগ লেটিটিয়া জেমসের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতির মামলা করলেও হ্যালিগান সংক্রান্ত রায়ের পর সেটি খারিজ হয়ে যায়। ভার্জিনিয়ার দুটি গ্র্যান্ড জুরির কাছে জেমসকে পুনরায় অভিযুক্ত করার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।




























