প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সাথে বর্তমানে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না এবং এমন কোনো আলোচনার পরিকল্পনাও নেই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ “পুরোপুরি কার্যকর” (in full force and effect) থাকলেও অন্যান্য সামুদ্রিক যান চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। একই সাথে তিনি ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি মানচিত্র পোস্ট করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার আগের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে সোমবার তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। যদিও তেহরান দ্রুতই সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এই মন্তব্যগুলো ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সাথে কোনো আলোচনা বা কথোপকথন চলছে না বা হওয়ার পরিকল্পনাও নেই। নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত ও সচল। সমস্ত জলমাইন সরিয়ে ফেলা বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।”
ইরান ও ওমান—যারা হরমুজ প্রণালীর সীমান্তবর্তী দেশ—তারা এই জলপথ পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের এই নতুন মন্তব্য মূলত সেই আলোচনার প্রতি তার হতাশার বহিঃপ্রকাশ। এর আগে তিনি ইরানকে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং ওমান যদি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তবে তাদের ওপর বোমা হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ট্রাম্পের পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ট্রাম্প যেমন পারস্য উপসাগরের নাম সঠিকভাবে লিখেছেন, তেমনি হরমুজ প্রণালী নিয়ে তার এই বিভ্রান্তিও শীঘ্রই সংশোধন হবে, অথবা আমরাই এই বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে সঠিক পথে নিয়ে আসব।”
এদিকে, মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কাতার জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে আনার আগে তারা ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রত্যাশিত চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন যে, ইরানের সাথে “ইতিবাচক আলোচনা” (positive talks) চলমান ছিল, কিন্তু ট্রাম্প এখন “অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন” এবং তার আলোচনা দলকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তেহরান “চুক্তি করার জন্য প্রস্তুত” না হওয়া পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করে।
ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেহরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করা এবং সব ফ্রন্টে হুমকি ও সামরিক অভিযান বন্ধ করা।
এই উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “ইরান থেকে উৎক্ষেপিত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে”। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো হুমকির মোকাবিলায় “সম্পূর্ণ প্রস্তুত”।
অন্যদিকে, সিরিয়ার ইদলিবে আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে আটটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। সিরিয়া ও ইরাকের জন্য মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক এই ঘটনাকে “অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা” হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে এগিয়ে নেয় না।
সূত্র: আল জাজিরা






























