আপনার পরিচিত কেউ কি আপনার জন্য অনেক ভালো কাজ করেন, কিন্তু প্রতিবারই মনে হয় যেন এর পেছনে কোনো গোপন শর্ত বা উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে? এমনও হতে পারে যে, কোনো একদিন এই ভালো কাজটিকে আপনার বিরুদ্ধেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে, কিংবা এটিকে আবেগীয় ব্ল্যাকমেইল বা দরকষাকষির হাতিয়ার বানানো হবে। হয়তো এমন কোনো উপকার তারা করছেন যা আপনি চাননি বা যার কারণে আপনার সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু এর প্রতিবাদ করলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনি যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তবে সম্ভবত আপনি এক বিশেষ ধরনের নার্সিসিস্ট বা আত্মমুগ্ধ ব্যক্তির মুখোমুখি হয়েছেন, যাকে বলা হয় ‘রিসেন্টফুল মার্টার’ বা ‘ক্ষুব্ধ শহীদ’।
এই ধরনের নার্সিসিস্টরা আপনার পছন্দ-অপছন্দের তোয়াক্কা না করেই আপনার জন্য কাজ করে যাবে। কারণ তাদের এসব কাজের উদ্দেশ্য আসলে আপনার কল্যাণ নয়, বরং এর মাধ্যমে নিজেদের জন্য প্রশংসা, মনোযোগ এবং আত্মতুষ্টি (যা মনস্তত্ত্বের ভাষায় ‘নার্সিসিস্টিক সাপ্লাই’ নামে পরিচিত) অর্জন করা। এ বিষয়ে বিশিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক দুরভাসুলা বলেন, "তারা কেবল নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করে। যেমন—তারা নিজেদের পছন্দের খাবার রান্না করে আপনার ফ্রিজ ভর্তি করে দেবে, যা হয়তো আপনি কখনোই খাবেন না। এমনকি আপনার জন্য এমন দিনে কোনো পার্টির আয়োজন করবে যেদিন আপনার যাওয়া কঠিন, কিংবা এমন সময়ে ছুটির পরিকল্পনা করবে যখন আপনার যাওয়ার কোনো উপায় নেই।"
অন্যান্য নার্সিসিস্টদের তুলনায় এই ‘ক্ষুব্ধ শহীদদের’ চিনে নেওয়া বেশ কঠিন বলে জানান সাইকোথেরাপিস্ট চেলসি ব্রুক কোল। তিনি ‘ইফ অনলি আই’ড নোন! হাউ টু আউটস্মার্ট নার্সিসিস্টস, সেট গিল্ট-ফ্রি বাউন্ডারিজ, অ্যান্ড ক্রিয়েট আনশেকেবল সেলফ-ওয়ার্থ’ বইয়ের লেখক। কোলের মতে, "ক্ষুব্ধ শহীদরা হলো ছদ্মবেশী নার্সিসিস্ট। তারা বাইরে থেকে খুব একটা উচ্চকণ্ঠ, অহংকারী বা চটকদার হয় না। সাধারণত তাদের খুব দয়ালু, সাহায্যকারী এবং পরোপকারী মনে হয়। কিন্তু তাদের এই ‘সাহায্য’ সবসময় তাদের নিজস্ব শর্তেই আসে এবং তা সরাসরি আপনার প্রয়োজন বা ইচ্ছার বিপরীত হয়ে থাকে।"
এসব মানুষের কাছ থেকে পাওয়া কোনো সাহায্যই যে বিনামূল্যে আসে না, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন আরেকজন সাইকোথেরাপিস্ট স্টেফানি সারকিস। ‘হিলিং ফ্রম টক্সিক রিলেশনশিপস: ১০ এসেনশিয়াল স্টেপস টু রিকভার ফ্রম গ্যাসলাইটিং, নার্সিসিজম, অ্যান্ড ইমোশনাল অ্যাবিউজ’ গ্রন্থের এই লেখক বলেন, "তারা মনে মনে একটি হিসাবের খাতা বা লেজার বুক বজায় রাখে যে কে তাদের কাছে ঋণী হয়ে রইল। আর কেউ যদি তাদের এই নিয়মের বৃত্তে অংশ নিতে অস্বীকার করে, তবে তারা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।"
তাদের এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বেশ কুৎসিত রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দুরভাসুলা। তিনি জানান, "তারা রেগে গিয়ে আপনাকে অকৃতজ্ঞ, অতি-দাবিদার, নির্দয় বা খারাপ মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারে। অনেক সময় তারা কথা বলা বন্ধ করে দেয় (সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট) কিংবা এক শব্দে উত্তর দেয়। নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করে মুখ ভার করে বসে থাকতে পারে, এমনকি কেঁদে কেঁদে বলতে পারে যে আপনি তাদের অবদানের কোনো মূল্যায়নই করলেন না।"




























