বেন স্টোকস ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের বিদায়ের পর টেস্ট ক্রিকেটের নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। হেডিংলিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট দিয়েই শুরু হচ্ছে তাদের এই নতুন পথচলা। স্টোকসের অবসর এবং ম্যাককালামের প্রস্থান ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইতিমধ্যে জো রুট পুনরায় পূর্ণকালীন অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা তিনি তিন বছর আগে ছেড়ে দিয়েছিলেন। স্টিফেন ফ্লেমিং পরবর্তী সময়ে প্রধান কোচের দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত মার্কাস ট্রেসকোথিক অন্তর্বর্তীকালীন কোচের ভূমিকা পালন করবেন।
ইংল্যান্ডের জন্য এই সিরিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে তাদের পারফরম্যান্স খুব একটা সন্তোষজনক ছিল না। সর্বশেষ তারা ২০২২ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল। এরপর ভারতের বিপক্ষে ড্র, অস্ট্রেলিয়ার কাছে অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধানে হার এবং নিউজিল্যান্ডের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ পরাজয় তাদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানও বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শান মাসুদের নেতৃত্বে ১৬ টেস্টে ১২টি পরাজয়ের পর বাবর আজমকে পুনরায় টেস্ট অধিনায়ক করা হয়েছে। তবে হাতের চোটের কারণে বাবর প্রথম টেস্টে খেলতে পারছেন না, তার বদলে দলের নেতৃত্ব দেবেন সালমান আঘা।
ইংল্যান্ডের জন্য হেডিংলি টেস্টটি নিজেদের নতুন করে প্রমাণের একটি বড় সুযোগ। জো রুটের অধিনায়কত্বের পাশাপাশি হ্যারি ব্রুক ও বেন ডাকেটের ব্যাটিংয়ের ওপর দলের সাফল্য অনেকখানি নির্ভর করবে। অন্যদিকে পাকিস্তানও নতুন অধিনায়ক ও বেশ কিছু নতুন মুখ নিয়ে নিজেদের অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে। বর্তমানে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ইংল্যান্ড সপ্তম এবং পাকিস্তান অষ্টম স্থানে রয়েছে।
আগামী ১৯ থেকে ২৩ আগস্ট লিডসের হেডিংলিতে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় খেলা শুরু হবে। প্রথম দুই দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, বিশেষ করে দ্বিতীয় দিনে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা বেশি। ইংল্যান্ডের দলে জ্যাকব বেথেল হাঁটুতে চোট পাওয়ায় ছিটকে গেছেন, যার ফলে জর্ডান কক্সের তিন নম্বরে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া দুই বছর পর দলে ফিরেছেন ড্যান লরেন্স। পাকিস্তানের সম্ভাব্য একাদশে মোহাম্মদ আব্বাস ফিরতে পারেন এবং আবদুল্লাহ শফিক দলে অবদান রাখার অপেক্ষায় আছেন।
অধিনায়কত্বের বিষয়ে জো রুট বলেন, দলের কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। তিনি মনে করেন, স্টোকস ও ম্যাককালাম যে ভালো কাজগুলো করে গেছেন, সেগুলো ধরে রেখে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়াটাই আসল চ্যালেঞ্জ। টেস্ট ক্রিকেটের কোনো নির্দিষ্ট ধাঁচ নেই, বরং খেলার মোড় পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজেদের মানিয়ে নেওয়াই আসল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।




























