নাইজেরিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার। আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে দেশে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতি ঘটলেও বিরোধী শিবিরের বিভক্তির কারণে তিনুবু সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আ আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটিতে আগামী ১৬ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে গভর্নর নির্বাচন। নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক শুরুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। এবারের নির্বাচনে তিনুবুর বিরুদ্ধে ১৮ জন বিরোধী প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াইটি ত্রিমুখী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন আফ্রিকান ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসের আতিকু আবুবাকার এবং নাইজেরিয়া ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসের পিটার ওবি। ২০২৩ সালের নির্বাচনেও এই দুই প্রার্থী তিনুবুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। আতিকু আবুবাকার দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পিটার ওবি একজন সাবেক গভর্নর, যিনি নাইজেরিয়ার তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।
নাইজেরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, একাধিক শক্তিশালী বিরোধী প্রার্থী মাঠে থাকলে ক্ষমতাসীন দলের জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। ২০২৩ সালের নির্বাচনেও তিনুবু একাধিক শক্তিশালী প্রার্থীর বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছিলেন, যদিও তিনি পেয়েছিলেন দেশটির ইতিহাসে কোনো নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন শতাংশ ভোট। ২০২৫ সালে তিনুবুকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে আতিকু এবং ওবিসহ অন্যান্যদের নিয়ে গঠিত একটি বিরোধী জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর আগেই ভেঙে যায়।
লাগোস-ভিত্তিক ঝুঁকি উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান এসবিএম ইন্টেলিজেন্সের অংশীদার ইকেমেসিট এফিয়ং বলেন, "মুদ্রাস্ফীতি, নিরাপত্তাহীনতা এবং বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতায় ভোটাররা চরম অসন্তুষ্ট। কিন্তু বিরোধী ভোটগুলো বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।" রাজধানী আবুজারের বাসিন্দা জুলিয়েট ওনাহ একই সুর মিলিয়ে বলেন, "পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন, তিনুবুই জিতবেন কারণ বিরোধীরা একসঙ্গে কাজ করছে না।"
২০২৩ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনুবু দেশের অর্থনীতি সংস্কারের জন্য কিছু বড় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল কয়েক দশকের পুরনো জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং স্থানীয় মুদ্রা নাইরা-র বিনিময় হারের ওপর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া। এর ফলে মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন ঘটে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায়, যা দেশটিতে এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে গণ-অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো নিরাপত্তা সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এই প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনুবু নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করেছেন। বিরোধী দল থেকে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা তার দলে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে নাইজেরিয়ার ৩৬টি রাজ্যের মধ্যে ৩১টির গভর্নরই ক্ষমতাসীন অল প্রোগ্রেসিভ কংগ্রেসের সদস্য। এই দলবদলের ফলে দেশটিতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের আশঙ্কা তৈরি হলেও জাতীয় সরকার তা অস্বীকার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নাইজেরিয়ায় গভর্নররা তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভোট কারচুপির অভিযোগ ওঠে। ফলে গভর্নরদের এই সমর্থন তিনুবুর পক্ষে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।






























